০৪:২০ পি.এম
নড়াইলের সদর উপজেলায় ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক রবিউল সিকদারকে (৩৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং দুপুরের দিকে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লেই, নড়াইল জুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ঘাতকের দ্রুততম সময়ে ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে পক্ষপাতী জনতা এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) পড়ন্ত বিকেলে জান্নাতিকে নিজ নির্জন ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে পাশবিক নির্যাতন চালায় পেশায় রাজমিস্ত্রি রবিউল সিকদার। রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুটি বিয়ে করলেও তার কোনো সংসার টেকেনি এবং বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। রবিউলের পাশবিক নির্যাতনের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই শিশুটি জান্নাতির মৃত্যু হয়। পরে ঘটনার ধামাচাপা দিতে রবিউল শিশুটির নিথর দেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন।
এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও শিশু জান্নাতি ঘরে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জান্নাতির মা রবিউলের বাড়ির দিকে গিয়ে মেয়েকে ডাকাডাকি করতে থাকলে রবিউল তাড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে মায়ের সন্দেহ হলে ঘরে ঢুকে খাটের উপর মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিরুপমা মল্লিক বলেন, "ধর্ষণের কারণে শিশুটির গোপনাঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।"
ঘটনার পরপরই নড়াইলের পুলিশ বিভাগ অপরাধীকে ধরতে মাঠে নামে। সোমাবার রাতেই নিহত জান্নাতির বাবা মফিজুল শেখ বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা করেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মঙ্গলবার সকালে দত্তপাড়া এলাকা থেকে জনতা অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। দুপুরেই তাকে জেলা বিচারিক আদালতে পাঠালে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
অভিযুক্ত রবিউল গ্রেপ্তারের পরপরই বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নড়াইল। সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে নড়াইল-মাগুরা সড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষোভের মুখে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে আশ্বাস দেন যে, অপরাধীর সর্বোচ্চ এবং কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে নড়াইল জেলা পুলিশ এবং মামলার তদন্তকারী দল যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরে ডিআইজির আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক ছাড়েন।
তবে দুপুরের পর নড়াইল-যশোর-ঢাকা মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় নিহতের স্বজন এবং এলাকাবাসী আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামির দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন