০৮:১০ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বাপন দে মন্তব্য করেছেন, ডিম একটি সুষম খাদ্য। ডিমের প্রোটিনকে স্ট্যান্ডার্ড প্রোটিন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর প্রোটিনের মান ৯৪। ডিমে উপস্থিত কোলিন শুধুমাত্র মস্তিষ্কের বিকাশেই নয়, শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন চারটি পর্যন্ত ডিম খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যেতে পারে। ডিমের কুসুমে থাকা জিয়াজ্যানথিন দৃষ্টিশক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে। তাছাড়া, ডিম মানসিক চাপ কমাতে, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও কার্যকর হতে পারে।
বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাকৃবির পোলট্রি সায়েন্স বিভাগ এবং ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন- বাংলাদেশ শাখা (ডব্লিউপিএসএ-বিবি)।
ড. বাপন দে আরও জানান, সারাবিশ্বে বছরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিম উৎপাদিত হয়, যার ৬০ শতাংশই এশিয়া মহাদেশে উৎপন্ন হয়। উৎপাদনের পাশাপাশি ডিমের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানুষের প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুটি ডিম খাওয়া উচিত। তবে, বিশ্বব্যাপী ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
তিনি বলেন, ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, কোলিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান বিদ্যমান। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং হাড় ও দাঁতের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডিমের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম খাওয়া এড়িয়ে চলেন। অথচ, ডিমের কুসুমে প্রোটিন, ভিটামিন, কোলিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় ডিমের সাদা অংশের পাশাপাশি কুসুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
বাকৃবির পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ডব্লিউপিএসএ বাংলাদেশ শাখার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউপিএসএ বাংলাদেশ শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সিরাজুল হক, পোল্ট্রি কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রফিকুল হক এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমানসহ পশুপালন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ডব্লিউপিএসএ বাংলাদেশ শাখার সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, প্রাণিজ প্রোটিন ছাড়া আমাদের জীবনযাপন সম্ভব নয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো প্রাণিজ প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না, কিন্তু তারা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করে, যা তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। আমাদের খাদ্যতালিকায় অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড রাখতে হবে, যা আমরা প্রাণিজ প্রোটিন থেকে পাই। এর অন্যতম প্রধান উৎস হলো ডিম, দুধ ও মাংস। এসবের মধ্যে ডিমের প্রোটিনের গুণগত মান সবচেয়ে ভালো। একইসাথে এর দামও তুলনামূলকভাবে কম। ২৫ গ্রাম প্রোটিন পেতে ডিমের পেছনে খরচ হয় ৪০ টাকা, যেখানে মাংসের ক্ষেত্রে খরচ হয় ৮০ টাকা। ডিমকে সরকারের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। বর্তমানে ডিম উৎপাদনে উৎপাদকদের প্রতি ডিমে ১০ টাকার বেশি খরচ বহন করতে হয়। তাই এ খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান বলেন, মানুষকে ডিম সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়োজন তুলনামূলক কম। কারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ডিম কিনছে ও গ্রহণ করছে। তাই ডিমের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা ৬ কোটি ডিম। ডিমের উৎপাদন বাড়লে এবং দাম কমলে মানুষের ডিম খাওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরিতে নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারলে ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। মুরগির খাবার সহজলভ্য করা এবং খাবারের দাম কমানোর মাধ্যমে ডিমের দাম কমানো সম্ভব। ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে চার হাজার ডিম বিতরণ করা হয়। ডিম বিতরণ শেষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষদের গেটের সামনে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি পশুপালন অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন