বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৩ পি.এম
সরকার দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এই হঠাৎ অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কেটে গেলে সরকার আবারও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে অঞ্চলে থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেখানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর ফলে সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বীমা প্রিমিয়ামসহ আমদানির ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সরকার প্রথমে প্রায় ছয় মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে, সরকার আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে। সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটন এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এ সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে।
তবে সেতুর কাজ এগিয়ে গেলেও, নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেছেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রকাশ সরকার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও, সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো সম্পন্ন হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে, সেটাই ভাবছেন তিনি।
লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে, সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। এর ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।
এছাড়া, সেতু নির্মাণের ফলে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ধারণা, এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান রয়েছে। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার।
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল জানান, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে।
ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন।
প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার কারণে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী এবং ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম পার্থ এবং সদস্য অনিক ইসলাম অভি।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে শ্রীনগর-দোহার সড়কের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের দামলা এলাকায় রবি টাওয়ারের সামনে সরকারি খালের জমি অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে রাঢ়ীখাল ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন খান এবং ভূমি অফিসের পিয়ন সুজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভরাটকাজ বন্ধ করতে বলেন।
এ সময় নুরুল ইসলাম পার্থ ও অনিক ইসলাম অভি সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে তারা ভূমি অফিসের দুই কর্মচারী এবং অটোরিকশাচালক সোহেলকে মারধর করে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে ভরাটকাজে বাধা দিলে ভূমি অফিসে গিয়ে আহতদের খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে সেখানে অবৈধ ড্রেজারটি ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদলের নেতা নুরুল ইসলাম পার্থ এবং অনিক ইসলাম অভিকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
কিশোরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় আজান আলী শরীফ গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো হলেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করা হয়।
জামিন আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে আজান আলী শরীফকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে, মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রাইভেটকারটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এক বছরের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে, আগামী বিসিএসটি সাধারণ হবে নাকি বিশেষ—এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল, যা অবশেষে দূর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ৫১তম বিসিএসের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের চিকিৎসকদের নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিএসসি সূত্রে জানা যায়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলমান চিকিৎসক সংকট নিরসনে সরকার সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র ও নির্দেশনা পিএসসিতে পৌঁছেছে।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, "চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুততম সময়ে এর দাপ্তরিক কাজ ও প্রয়োজনীয় বোর্ড মিটিংয়ের পর্যালোচনা শেষ করে। সাধারণ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন তৈরির আগেই বিশেষ বিসিএসের সব আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এই বিশেষ বিসিএসকেই ‘৫১তম বিসিএস’ হিসেবে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল কমিশন।"
এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসককে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন বা মেডিক্যাল অফিসার পদে এবং বাকি ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ পাবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো ও চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটের সেই নীতিগত নির্দেশনার আলোকে পিএসসি এবার চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএস দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত করেছে।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএসে লিখিত পরীক্ষার কোনো দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া থাকবে না। সাধারণত ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের দক্ষতাভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমে দ্রুত প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসককে দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা সম্ভব হবে।
৫২তম সাধারণ বিসিএস কবে
বিশেষ বিসিএস ৫১তম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের দৃষ্টি এখন ৫২তম বিসিএসের দিকে। পিএসসির পূর্বঘোষিত বিসিএস ক্যালেন্ডার বা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসেই সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) চলছে। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর অথবা এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিএসসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বরেই নতুন সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে।
বিস্তারিত দেখুন এখানে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ