বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ের চেষ্টা এবং এক পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট পরিবর্তন করার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক মো. মোশারফ হুসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও দাখিল পরীক্ষা-২০২৬-এর সহকারী কেন্দ্র সচিব মো. আব্দুল বাকী ওরফে লিটন, সাউদপাড়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার মো. রোকনুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. অলিউল্লাহ এবং ধনতোলা বাজার দাখিল মাদরাসার সুপার মো. ইব্রাহিম খলিলকে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থী মো. হাবিবুল বাশার মুবিন গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দেন। ২০ মে পরীক্ষা চলাকালে প্রথম আসামি আব্দুল বাকী ওরফে লিটন পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে বহুনির্বাচনি পরীক্ষার উত্তর সরবরাহ করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মুবিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটনের সঙ্গে তার বাক্বিতণ্ডা হয়।
পরীক্ষা শেষে মুবিনের বহুনির্বাচনি অংশের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে অন্য একটি ওএমআর শিট শিক্ষাবোর্ডে পাঠানোর অভিযোগ করা হয়েছে। ১০ আগস্ট দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মুবিন দেখতে পান, অন্যান্য বিষয়ে এ প্লাস পেলেও জীববিজ্ঞান বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও ফল পরিবর্তন না হওয়ায় ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন।
শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মুবিনের জীববিজ্ঞান বিষয়ের লিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি অংশের ওএমআর শিট পর্যালোচনা করা হলে তিনি দাবি করেন, দেখানো ওএমআর শিটটি তার নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ডের রেজিস্ট্রারের অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি পরীক্ষার্থীর আবেদন, লিখিত ও বহুনির্বাচনি পরীক্ষার ওএমআর শিট, হাজিরা শিটসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে। এ সময় পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে থাকা ওএমআর শিটের স্বাক্ষরের সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পাওয়া যায়। মুবিনের হাজিরা শিটে থাকা বহুনির্বাচনি ওএমআর শিটের প্রকৃত সিরিয়াল নম্বর ২৫০০৫৮৬০২০ হলেও শিক্ষাবোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ২৫০১৫৭৫১৫৩। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০ মে দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ আসামি লিখিত বক্তব্য দিলেও প্রথম আসামি আব্দুল বাকী ওরফে লিটন শিক্ষাবোর্ডে উপস্থিত হয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তর সরবরাহের চেষ্টা এবং পরে পরীক্ষার্থীর প্রকৃত ওএমআর শিটের পরিবর্তে অন্য একটি ওএমআর শিট জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
মামলার দুই নম্বর আসামি সাউদপাড়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘হঠাৎ বোর্ড থেকে ফোন করে জানানো হয়, ওএমআর পরিবর্তন হয়েছে। আমি বলি, এ বিষয়ে তো আমি কিছু জানি না। এরপর আমাদের বোর্ডে ডাকা হয়। আমরা গিয়ে বিষয়টি দেখি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হল সুপার ছিলাম, এজন্যই আমাকে আসামি করা হয়েছে। বাকি তিন আসামির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশার মুবিন গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শেষে তাদের সবাইকে থাকতে বলা হয়। এরপর তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন হুজুর তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
মুবিন বলেন, ‘ফল প্রকাশের পর দেখি, সব বিষয়ে এ প্লাস পেলেও শুধু জীববিজ্ঞানে ফেল করেছি। পরে বোর্ডে চ্যালেঞ্জ করেও ফল পরিবর্তন হয়নি। এরপর বোর্ডে গিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিই। অভিযোগের পর খাতাগুলো বের করে দেখি, আমার ওএমআর শিট পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বোর্ড আমাকে আশ্বস্ত করেছে, আমি সঠিক বিচার পাব এবং ভর্তির বিষয়েও সহযোগিতা করা হবে। আমি চাই, এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থীর এমন ক্ষতি না হয়।
মামলার বাদী বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক মো. মোশারফ হুসেন বলেন, ‘বোর্ডের লিখিত আদেশের কারণে থানায় মামলা করেছি। বোর্ডে পাঠানো কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীটির সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মামলা হয়েছে। এখন তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
মামলার তদন্তভার উপ-পরিদর্শক মো. মশিউর রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মামলার পর থেকে আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। মামলাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে এ ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
মামলাটি পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ (সংশোধন) ২০২৬-এর ৮/১৩ ধারায় করা হয়েছে। এফআইআর অনুযায়ী, মামলার তদন্তভার গঙ্গাচড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. মশিউর রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সহকারী জজ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ফলাফলটি প্রকাশ করা হয়।
আরিফুল করিম সিয়াম জানান, "আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিনশেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন।"
তিনি আরও বলেন, "এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রেগুলার পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি সাঈদা আনজু অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। সিয়ামসহ ১৮তম বিজিএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম স্থান অধিকার করে। ১৭তম পরীক্ষায় বিরতির পর ১৮তম বিজেএসেও শীর্ষস্থান অর্জন করলেন রাবির শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা তৈরি পোশাক খাতের ঝুঁকি কমানোর জন্য নতুন বাজার হিসেবে জাপানে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন, যা নির্দিষ্ট কিছু বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্দেশ্যে। তবে, দীর্ঘ ‘লিড টাইম’ বা পণ্য পৌঁছানোর অতিরিক্ত সময় এই ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ ভবনে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষ ‘জাপান ডেস্ক’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান এসব মন্তব্য করেন।
মাহমুদুল হাসান জানান, বাংলাদেশের পণ্য জাপানে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে, যা চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ঘটে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকটের সমাধানে তিনি পরিবহন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি ডিরেক্ট শিপিং ও লজিস্টিকস সুবিধা জোরদারে জাপান সরকারের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। তিনি আশ্বাস দেন যে, দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ সুগম করতে জাপান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে একটি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথমে অন্য এক কর্মকর্তার কাছে জিডিটি ছিল, কিন্তু পরে তিনি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কোথাও তার সন্ধান পাওয়া গেলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
এসআই আব্দুল কাদের আরও জানান, ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। ফলে তার অবস্থান শনাক্তে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তার মা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোন ব্যবহার করে সে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, তা জানতে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) চাওয়া হয়েছে। সিডিআর পাওয়া গেলে সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করা হবে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী জোয়ার সাহারা জসীমউদ্দীন ইনস্টিটিউটের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন আগে তার বাবা তাকে পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকা করেন। এরপর গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভাটারা থানায় জিডি করেন।
নিখোঁজ কিশোরীর ভাই জানায়, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার বোনের সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সে কোনো স্বর্ণালংকার বা টাকা-পয়সাও সঙ্গে নেয়নি।
ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না জানতে চাইলে তার ভাই বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন।
নতুন মহাসচিব নিয়োগের বিষয়টি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নোমান মাহমুদ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত এই প্রতিরক্ষা জোটের সাধারণ সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ২০২৩ সালে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তা ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনডিইউ) প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যৌথভাবে বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছেন। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এই চুক্তির স্বাক্ষরের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ‘মক্কা জোট’ নামে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত হলো, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। সদস্য যেকোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে তা তিনটি দেশের ওপরই যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলায় এবং পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যৌথভাবে আধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদনে এই ঐতিহাসিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ