বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৪০ এম
ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের বিশেষ সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকার্যকর অবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর (ভায়েবল) অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পরিচালনা পর্ষদের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত এই তিন মাসের মধ্যে শর্তগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক পূরণে ব্যর্থ হলে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন কার্যক্রম শুরু করবে।
বিশেষ সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো: প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের আমানত পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন নদীর তীরে ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনের কারণে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং স্থাপনা।
একদিকে হাজারো পরিবার ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর কৃষিজমি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানিও বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। ফলে জেলার প্রধান চারটি নদ-নদীর তীরবতী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, “দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত পাঁচ দিনে আমাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন। আমরা চাই স্থায়ী ব্যবস্থা।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক আমাদের নজরে রয়েছে এবং ভাঙন মোকাবেলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি আরো কমলে ভাঙনের নতুন তালিকা তৈরি করে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “নিমজ্জিত ফসল পানি দ্রæত নেমে গেলে আংশিক রক্ষা হতে পারে।” তবে শাকসবজি, মরিচ, বীজতলা অনেক নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিনের নেতৃত্বে, যা তিতাসের শাখা নদী দুগাঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযান পরিচালনাকালীন সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, অভিযানটি পৌর এলাকার আনন্দবাজার থেকে শুরু করে শিমরাইলকান্দি, ভাদুঘর এলাকা ও আশেপাশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানগুলোতে চলে।
এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত মোট ৫০টি রিং জাল, ১০টি কারেন্ট জাল এবং আটটি মাছ ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।
পরে এসব জাল নদীর পাড়েই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ অভিযানের সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল, সদর থানার এসআই মো. রমজান এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফ্রি-ট্রেড জোনে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময়টি নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাংলাদেশের তৈরিপোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য এখন সময়টি সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মার্কিন বিনিয়োগ কতটা সুযোগ সৃষ্টি করবে, সে বিষয়ে চেম্বার সভাপতি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফ্রি-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করার জন্য কমার্শিয়াল কাউন্সেলরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব এবং রাহবার এ আনোয়ার।
এছাড়া, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইনও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিডার সাথে কাজ করছে। তিনি যে কোনো বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটে ২৩ হাজার ৭৫ বোতল অবৈধ এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছে। এই সিরাপগুলো ধ্বংসের কাজটি বুধবার বিকালে জয়পুরহাট আদালত চত্বরের সামনে রোলার ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়। এর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫০ টাকা বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র এবং জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিকসহ অপর দায়িত্বশীলরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ বিকাল যামালগঞ্জগামী রাস্তার সংলগ্ন জানিয়ার বাগান এলাকার একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি দল। অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এবং চালানের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিহাব উদ্দিন মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি জয়পুরহাট সদরের দোগাছী গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি চরম হুমকিস্বরূপ। তারা অবৈধ এবং নকল সিরাপের বিরুদ্ধে সর্বদা অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ