ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলো পুলিশ


স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলো পুলিশ

কুমিল্লার লালমাটিয়ায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তারা নিশ্চিত করেছে যে, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। বর্তমানে ঘটনার বিস্তারিত আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর (উত্তর পাড়া) গ্রামে ধানক্ষেতের আইলের পাশে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে জাতীয় জরুরী সেবা (৯৯৯) এ কল আসে। লালমাই থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে শনাক্তকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। পরে, ভিকটিমের পিতা মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং জানা যায়, ভিকটিমের নাম জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। তার স্থায়ী ঠিকানা যশোর জেলা।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ভিকটিম তার পিতার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়।

সুমন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। চালক সুমন ৫০০ টাকা ভাড়া চাইলে শেষ পর্যন্ত ৩০০ টাকায় যাওয়ার চুক্তি হয়। পথে একটি দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে চালকের জন্য রুটি ও কলা কিনে আনে তাজমিন।

পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন করে চাঁদপুর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। এরপর বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকায় পৌঁছে অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। জায়গাটি চিনতে না পেরে তাজমিন প্রশ্ন করলে সুমন জানায়, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন বিপদের আশঙ্কায় অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন।

এ সময় অটোরিকশাচালক সুমন তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে তাজমিন চিৎকার শুরু করে। তখন সুমন গামছা দিয়ে কিশোরীটির গলা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ধানক্ষেতে নিয়ে তাজমিনের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

হত্যার পর তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয় সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাঁচিকাটা মসজিদের সামনের পুকুরে গোসল করে সে। এরপর অন্য একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে পুকুরপাড়ের একটি জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে সেখান থেকে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় সুমন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদের ওই জঙ্গল থেকে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার ভ্যানিটি ব্যাগও।

ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া আরও জানান, ঘটনার রাতে ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমিন তার বাবার সঙ্গে নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করেছিল। তবে তার বাবা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দেখতে পাননি। ভোরের দিকে লোকেশনটি দেখে তিনি ওই এলাকায় মেয়েকে খুঁজতে যান।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। ওই ফুটেজে তাজমিনকে অটোরিকশায় শান্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত চালক সুমন ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তাজমিন গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করা হয়নি। বাসায় না জানিয়ে ওই চার দিন সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল কিংবা কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আসামি সুমন স্বীকারোক্তি দিলেও ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। এছাড়া উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তাজমিনকে তার পরিবার কিনে দিয়েছিল কি না, তাও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যায় সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যায় সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ধর্ষণে বাধা দেওয়ার কারণে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। কিন্তু পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে চালক তাকে অন্য পথে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সুমনের কবলে পড়ে তাজমিন। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন যে, তাজমিনকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর পাশের একটি পুকুরে গোসল করে তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না, তা আদালতে উপস্থাপনের পর জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল তাজমিনের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়।

পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সময়মতো বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে নেমে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলক্ষেতে চাকরিপ্রত্যাশীদের অবরোধ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


নীলক্ষেতে চাকরিপ্রত্যাশীদের অবরোধ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিত হওয়ায় রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পরীক্ষা শুরুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে স্থগিতের ঘোষণা আসার পর তারা বিক্ষোভে অংশ নেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসে পরীক্ষাটি স্থগিতের কথা জানান। হঠাৎ করে স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা সড়ক অবরোধ করেন।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা একজন পরীক্ষার্থী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়া, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও সময়মতো উপস্থিত হননি। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, সকাল ১১টায় পরীক্ষাটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময় পর্যন্ত পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর কর্মকর্তারা এসে জানান যে পরীক্ষা হবে না।

আরেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রশ্ন বলে বিভিন্ন প্রশ্ন প্রচার করা হচ্ছিল। পরে দেখা যায়, সেসব প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে আগের দিন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেক প্রার্থীকে যাতায়াত ও আবাসনের জন্য দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। কেউ হোটেলে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হঠাৎ পরীক্ষাটি স্থগিত হওয়ায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনার প্রতিকার এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

জানা গেছে, ২৪২টি পদের বিপরীতে এ নিয়োগ পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাবে’

সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নতুন করে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইনের অস্পষ্ট বিধান ও অপব্যবহারের আশঙ্কা বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে সংকুচিত করতে পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী—বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি, এনসিপি এ সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, লেখক, বিশ্লেষক ও নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।

এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। সাংবাদিক, লেখক ও সাধারণ মানুষও এ আইনের শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও সেই আইনের অপপ্রয়োগের ভয়াবহতা তুলে ধরে। সে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে অনলাইন অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে এবং এককভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে গণভোটের রায় ও জাতীয় ঐকমত্যকে উপেক্ষা করছে। বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি আওয়ামী লীগের আমলের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংবিধান সংশোধনের ফলে ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ছড়ানো ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকারের সমালোচনা করলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো সংকট থাকলেও সরকার কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না। এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের কারণে স্থগিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তার মতে, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে এসব সংকট নিয়ে কথা বলা নাগরিকদেরও হয়রানি করা হতে পারে। তাই তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনী থেকে সরে এসে জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।

শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর পক্ষে সরকার যেসব যুক্তি দিচ্ছে, সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে উসকানি, সহিংসতার আহ্বান, নারী ও শিশুর প্রতি হয়রানি এবং অপতথ্য ছড়ানোর মতো ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। তবে এসব কর্মকাণ্ডের অনেকগুলোই বিদ্যমান আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এসব অপরাধ প্রতিরোধের যুক্তিতে নতুন করে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধানগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা দরকার।

ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজবের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকলে তা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোন তথ্য গুজব হিসেবে বিবেচিত হবে, কে তা যাচাই করবে এবং যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে, কোনো অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ না থাকলে অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি বা পরিবারও আইনি হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একইভাবে, অনলাইনে মানহানির বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে জনস্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমগুলো সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।

নাবিলা ইদ্রিস আরও বলেন, অশালীন বক্তব্য বা গালিগালাজ সামাজিকভাবে অনুচিত হলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের নামে রাষ্ট্রকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। রাষ্ট্র নাগরিকের অভিভাবক নয়; নাগরিকের রাষ্ট্রের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তাই বাক্‌শালীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য -'বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো আইন ব্যবহার করবে না' - শুধু এ আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। আইনটি ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে এর কাঠামোতেই অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা ও গ্রেপ্তার মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ হয়রানির আশঙ্কায় নিজের মতপ্রকাশ থেকে বিরত থাকে, যা ‘চিলিং ইফেক্ট’ নামে পরিচিত।

নাবিলা ইদ্রিস আরও বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি, তবে তা যেন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বচ্ছ যাচাইপ্রক্রিয়া, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ এবং বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকসহ সবার অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ২৬(ক) ধারার সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ছড়ানো একটি তথ্যের ভিত্তিতে কারও মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ে তার জন্য দোয়া করলে, সেই ব্যক্তিরাও কি শাস্তির আওতায় আসবেন? তার মতে, আইনে অপরাধের সংজ্ঞা ও প্রয়োগের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট না হলে সাধারণ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেসব আইন ও বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিএনপির বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে। তাই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর চুক্তি নিয়ে বিএনপি দেশ বিক্রির অভিযোগ তুললেও পরে তারাই একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্দর ইজারার চুক্তি করেছে। বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের ১৮ মাস পূর্ণ হলে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সঙ্গে তুলনা করবে। তার মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো জটিল সমস্যার সমাধানে একতরফা পদক্ষেপ না নিয়ে বেকারত্ব, জনপরিবহন, যানজট, বিদ্যুৎ-সংকট ও সড়কনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও সংকট মোকাবিলা করতে হবে। নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করলেও বর্তমান সরকার কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রায় অবিকল রেখে আইন করেছে। স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত আইনে নির্বাহী আদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। অথচ জবাবদিহি নিশ্চিত করার অধ্যাদেশ বাতিল করা হলেও সরকারকে জনপ্রতিনিধি অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার অধ্যাদেশে অনলাইন যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতায় উসকানির মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সাইবার আইনে এমন সংশোধনী আনতে চাইছে, যা ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকে ফেসবুক পোস্টের কারণে ২১ থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তারের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোই বিদ্যমান সাইবার আইনের আওতায় না পড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারোয়ার তুষার বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান ও গুজবের মতো বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসবের সংজ্ঞা স্পষ্ট নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজনৈতিক সচিব ও সরকারপন্থী প্রচারকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা হচ্ছে—এমন দাবি করা হয়েছে। তার প্রশ্ন, গুজব নির্ধারণ করবে কে এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছড়ানো কথার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে বলেছে, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের প্রশ্নে ছয় মিনিটও অপেক্ষা করেনি। অতীতের ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চিরস্থায়ী নিরাপত্তা নয়। জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় জেন-জি ও জেন-আলফার প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।

লেখক, বিশ্লেষক ও নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী যেভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে একধরনের অহমিকার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংকট ও পরিবর্তনের পর মানুষ আশা করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকার সত্যিই এমন আইন প্রণয়ন করতে চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আইনটি আমলাতান্ত্রিক, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।

অপূর্ব জাহাঙ্গীর আরও বলেন, কোনটি অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা সরকার নিজেই নির্ধারণ করবে, নাকি আদালত কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এ ধরনের বিষয়ে শুধু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা কঠিন। তবে আইনটি নিয়ে আলোচনা চলমান রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করবে এবং এমন একটি আইন প্রণয়ন করবে, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ২৫ ও ২৬ ধারাসহ কয়েকটি বিধান বাক্‌স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাইপ্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা সাংবাদিকদের সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে মামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সম্পাদকরা সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ তৈরি হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধামাচাপা পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।

ফয়সাল মাহমুদ আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর ৮ ধারায় বিচারিক অনুমোদন ছাড়াই কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে শুধু সাংবাদিক নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকেরাও আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন। কয়েকজনকে শাস্তির মুখোমুখি করা হলে অন্যদের মধ্যেও ভীতি তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। তাই প্রস্তাবিত সংশোধনীর ঝুঁকিপূর্ণ বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও বিধান রাখা হয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—বিভিন্ন সময়ে আইনের নাম পরিবর্তন হলেও এর অপব্যবহারের আশঙ্কা দূর হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, আর কখনো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে গুজবের অস্পষ্ট সংজ্ঞা, মিম তৈরি ও শেয়ার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ এবং মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে রাখার বিষয়গুলো নতুন করে দমন-পীড়নের আশঙ্কা তৈরি করছে।

অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা আরও বলেন, সাংবাদিক বা আইনজীবীদের জন্য আলাদা সুরক্ষা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত করতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা কোনো নির্বাহী বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের হাতে না দিয়ে কেবল আদালতের হাতে রাখা উচিত। একই সঙ্গে সাইবার-সংক্রান্ত অপরাধকে মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলে নাগরিক হয়রানির আশঙ্কা বাড়বে। তাই নাগরিককে প্রজা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বন্ধ করে বাক্‌স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিতর্কিত বিধানগুলো বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, বাক্‌স্বাধীনতা, নাগরিকের ন্যায়বিচার ও চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ কোনো সরকার কালো আইনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই আইনের মাধ্যমে লেখক ও মতপ্রকাশকারীদের গ্রেপ্তার, কারাগারে নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন বলেন, প্রস্তাবিত আইনে অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও বিধানের কারণে বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে আবারও আগের মতো নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের ম্যাচসহ আজকের খেলা টিভিতে সম্প্রচারিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


বাংলাদেশের ম্যাচসহ আজকের খেলা টিভিতে সম্প্রচারিত হবে

আজ বাংলাদেশের আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে মাঠে নামার কথা রয়েছে। এছাড়া, রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিভিশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলা সম্প্রচারিত হবে।

ক্রিকেট

আবুধাবি টেস্ট : ৩য় দিন

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান

দুপুর ১২টা, টি স্পোর্টস

ডারবান টেস্ট : ৩য় দিন

দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া

বেলা ১-৩০ মি., ট্যাপম্যাড

২য় টি-টোয়েন্টি

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা

সন্ধ্যা ৭টা, পিটিভি স্পোর্টস

৩য় টি-টোয়েন্টি

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

ফুটবল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

হাল সিটি-এভারটন

সন্ধ্যা ৭টা থেকে স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ চ্যানেলে খেলা শুরু হবে।

লিভারপুল-ম্যান সিটি

রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একই চ্যানেলে আরেকটি ম্যাচ সম্প্রচারিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%