০৩:১৯ পি.এম
টানা বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার ফলে রাঙামাটির কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে।
হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে গবাদিপশু এবং পোলট্রি খামার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
কিছু স্থানে ফসলসহ জমি ডুবে গেছে, আবার কোথাও বীজতলা নষ্ট হয়েছে। শাক-সবজি, আদা, হলুদ, মরিচসহ একাধিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি এলাকার খামারিরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বন্যার পানিতে দুটি খামারের আটটি গরু মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি এবং খামারনির্ভর প্রায় ৮ হাজার পরিবার এ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, জেলার ১০টি উপজেলার কমবেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায়।
জেলায় মোট ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, রাজস্থলী উপজেলার বন্যার পানিতে দুই খামারির ৮টি গরু মারা গেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় ৪২১ হেক্টর চারণভূমি নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং প্রায় তিন শতাধিক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাঙামাটি মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম বলেন, রাঙামাটিতে আলাদা করে উল্লেখযোগ্য মাছচাষ হয় না।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
জেলার অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আগেই ছাড়া পোনাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল।
বন্যার কারণে কিছু মাছ ছড়িয়ে গেলেও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন