০২:৫৬ পি.এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজার অসামরিকীকরণ ও অস্ত্র হস্তান্তরের শর্ত মেনে নিয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি কাতার, তুরস্ক ও মিসরের সরাসরি মধ্যস্থতায় আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়।
এই চুক্তির ধারা অনুযায়ী, হামাস তাদের সমস্ত অস্ত্র ইন্টারন্যাশনাল স্টাবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ) কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসাথে, গাজার বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ অসামরিকীকরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা স্থানীয়ভাবে এই অসামরিকীকরণের বিষয়টি যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপের প্রক্রিয়া ঘটবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির অধীনে গঠিত আইএসএফ বাহিনী তিনটি প্রধান কাজ করবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রথম কাজ হচ্ছে ফিলিস্তিনের জন্য একটি নতুন ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গঠনে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা।
দ্বিতীয় কাজ, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে তারা ইসরায়েল এবং সাধারণ গাজাবাসীর মাঝে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এছাড়া, তৃতীয় কাজ হিসেবে, গাজায় হামাসের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ পথ বা টানেল নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয়করণসহ সার্বিক অস্ত্র বাতিল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘বোর্ড অব পিস’-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ গাজার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে। কর্মকর্তাদের মতে, গাজাকে সম্পূর্ণ অসামরিকীকরণ করতে ২০০ থেকে ৩০০ দিন সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এছাড়া, জানা গেছে, একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে এই বাহিনী কাজ করবে। প্রায় ৫ হাজার সেনার যৌথ এই বাহিনী গঠন করতে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হামাসের প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য গাজী হামাদ বলেছেন, গাজার নিরস্ত্রীকরণের পুরো বিষয়টি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরো বলেন, নিরস্ত্রীকরণের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরায়েল কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। গঠিত জাতীয় কমিটিই এই কাজ পরিচালনা করবে।
চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গাজী হামাদ বলেন, আলোচনাগুলো অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল ছিল। তবে হামাস ফিলিস্তিনিদের জন্য সেরাটি নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় হামাস তাদের জাতীয় লক্ষ্যে সবসময় অটল রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ইসরায়েলকে সতর্ক করে গাজী হামাদ আরো বলেছেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যদি চুক্তির শর্ত অনুসারে তাদের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালন না করে, তবে হামাসও গাজা শান্তি চুক্তির কোনো পদক্ষেপ বা শর্ত বাস্তবায়ন করবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন