রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৯ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে আগুন আতঙ্কের কারণে শতশত রোগী বেরিয়ে আসেন। দৌড়ানোর সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
এটি ঘটেছিল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায়।
সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় তলার হাম ওয়ার্ডের সামনে একটি পয়েন্ট থেকে উচ্চ শব্দে অক্সিজেন নির্গত হতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা হুড়াহুড়ি করে নেমে হাসপাতালের বাইরের রাস্তায় চলে যান।
অক্সিজেন প্লান্টের বিআইই ট্যাংক অপারেটর রিপন চৌধুরী জানান, ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেনের চাপ বেশি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেফটি রিলিজ ভালভ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ বের হয়ে যায়। এ সময় শব্দ হতে পারে। অক্সিজেন স্বাভাবিক চাপে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটি অক্সিজেন প্লান্ট চালুর পর থেকেই হয়ে আসছে এবং এতে আতংকিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি জানান, বিকট শব্দ শোনার পর গুজবের কারণে রোগী ও স্বজনেরা আতংকিত হয়ে ওয়ার্ড থেকে নিচে নেমে যান। হাসপাতালে আগুন লাগার কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কেউ আহতও হননি। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীরাও নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আগুন লাগার কোনও ঘটনা পাওয়া যায়নি। অক্সিজেন প্লান্টও অস্বাভাবিক ছিল। গুজব থেকেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও স্বজনদের আতংকিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং কোনও গুজবে কান না দিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে মূল্যচাপ কমার প্রবণতা কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর অব্যাহত রয়েছে। আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যচাপ কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। ফলে মে মাসের তুলনায় তিন মাসে মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়।
ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছালেও মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়। এপ্রিলে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠে। এরপর জুনে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সর্বশেষ আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
অর্থাৎ মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠার পর পরবর্তী তিন মাসে তা ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি কমার ধারাও অব্যাহত রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি টানা দ্বিতীয় মাসে কমার পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও নিচে রয়েছে।
গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং শহরে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।
বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগও মূল্যচাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে কম আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির নতুন উদ্যোগও নিচ্ছে টিসিবি। এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসা সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কমেছে। তাই সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবণতা ধরে রেখে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যচাপ আরও কমানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
কয়েক মাসের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পর টানা তিন মাসে হার কমে আগস্টে গত ১০ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা অর্থনীতিতে মূল্যচাপ প্রশমনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের ঘরে নেমে আসার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও কমে আসবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির অফিস ভবন এবং খামতাং পাড়ায় কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন করেন বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং।
একই দিনে দুপুরে রুমা উপজেলায় বম নারী সংগঠনের (বিএনএম) অফিসঘর ও ছাত্রীনিবাস ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। অন্যদিকে, রুমা বাজার সংলগ্ন মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন মাঠে পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্র্বতীকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণ সংবর্ধনা প্রদান করে রুমা উপজেলা বিএনপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও গণ সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বান্দবান জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জাবেদ রেজা, জেলা পরিষদের সদস্য চনুমং মারমা, লুসাইমং মারমা, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন তুষার, মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যা, উম্যাসিং মারমা, রোয়াংছড়ি উপজেলার কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অংশৈমং মারমা, সাধারণ সম্পাদক কমলসহ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এদিকে গণ সংবর্ধনা সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং মন্তব্য করেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ কাজ করবে। তিনি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাম্যাচিং আরও বলেন, বান্দরবানের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে নিয়ে জেলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্বত্য জেলার মানুষের উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চোখের দৃষ্টি সঠিক রাখতে অনেকেই নিয়মিত চশমা ব্যবহার করেন। তবে চশমা পরা যথেষ্ট নয়, নিয়মিতভাবে পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাচে যদি ধুলো-ময়লা জমে থাকে, তাহলে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থায় থাকলে লেন্স পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে, যা বেশ ব্যয়বহুল।
কিন্তু চশমা পরিষ্কার করার সময় অনেকেই কিছু ভুল করেন, যার ফলে লেন্সের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তা দিয়েই চশমার কাচ মুছে ফেলার অভ্যাস পরিহার করা উচিত।
জামার কাপড় দিয়ে কাচ মোছেন?
অনেকে চশমার কাচ ময়লা হলে জামা বা অন্য কোনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেন। কাপড় যতই নরম হোক, এটি দিয়ে কাচ ঘষা সঠিক নয়। কারণ পোশাকের মধ্যে থাকা ধুলোবালি কাচে লেগে যেতে পারে। ফলে ময়লা পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে লেন্সে আরও ময়লা জমার সম্ভাবনা থাকে।
টিস্যু বা ন্যাপকিনও নয়
পেপার তোয়ালে, টিস্যু বা ন্যাপকিন দিয়ে চশমার কাচ পরিষ্কার করার অভ্যাস থেকেও বিরত থাকতে হবে। এসব কাগজের তন্তু কাচে আটকে থাকতে পারে। এতে কাচ পুরোপুরি পরিষ্কার না হয়ে উল্টো ময়লা জমার সুযোগ তৈরি হয়।
গরম পানি দিয়ে চশমা ধোবেন না
চশমা পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব। তবে গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। বেশি তাপমাত্রার পানিতে লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ফ্রেম থেকে কাচ খুলেও যেতে পারে। তাই চশমা পরিষ্কারের সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই শ্রেয়।
সব ধরনের পরিষ্কার করার স্প্রেও নয়
চশমার কাচ পরিষ্কারের জন্য অ্যামোনিয়া বা অ্যালকোহলযুক্ত পরিষ্কার করার স্প্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব উপাদান লেন্সের ওপর থাকা বিশেষ প্রলেপের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে রোদচশমা বা আলো অনুযায়ী রং বদলায় এমন লেন্সে এ ধরনের স্প্রে ব্যবহার না করাই ভালো।
তাহলে চশমা পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
চশমা পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে এক ফোঁটা হালকা বাসন পরিষ্কার করার তরল মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর সেই পানি দিয়ে চশমার কাচ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
চাইলে শুধু কলের পানির নিচেও চশমা ধরে রাখতে পারেন। পানির স্রোতে কাচের ওপর থাকা ধুলো-ময়লা ধুয়ে যাবে। সবশেষে মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।
মনে রাখুন
চশমা পরিষ্কার করার সময় জামার কাপড়, টিস্যু বা ন্যাপকিন, গরম পানি এবং অ্যামোনিয়া বা অ্যালকোহলযুক্ত পরিষ্কার করার স্প্রে এড়িয়ে চলুন। সঠিকভাবে পরিষ্কার করলে লেন্স পরিষ্কার থাকবে এবং চশমাও দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের রিট বন্ধ হলে মামলার চাপ আরও অনেক কমে আসবে।
তিনি বলেন, "বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা আনতে পারলে রিট মামলার সংখ্যা কমে আসবে। আমার দৃষ্টিতে আদালতে যদি শৃঙ্খলা থাকে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে মানুষ ন্যায়বিচার পায়।"
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৩ মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২ টি। এই ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।
এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই ৩ মাসে হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ এই সময়ে নতুন রিট মামলা দায়েরের চেয়ে নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ। জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।
হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (জনস্বার্থ মামলার) নামে ব্যক্তি স্বার্থে রিট মামলা করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্যই থাকে আত্মপ্রচার। অনেকেই রিট মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক। আইনের অনেকগুলো বিষয় অলরেডি আপিল বিভাগ ঠিক করে দিয়েছেন যে, হাইকোর্ট কোন মামলাগুলো গ্রহণ করতে পারবে কিংবা কোনগুলো পারবে না। যেমন- প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো রিট পিটিশন চলে না। এটা সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য রায়ে থাকা সত্ত্বেও সময়ে-সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণ করছেন এবং আদেশ দিচ্ছেন। যার ফলে একটা বিচারিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলার জায়গাটা যদি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় তাহলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।"
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "আমি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করছি যে, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট করা হচ্ছে। যেমন- জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড় নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে সরাসরি রিট পিটিশন চলে না। আইন বলে ব্যক্তি এক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলা করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করবেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিটাকে অনেকে বাইপাস করে সরাসরি হাইকোর্টে এসে মামলাগুলো করছেন। ফলে হাইকোর্টে রিট মামলা বেড়ে যাচ্ছে।"
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো-
রিট অব হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটকে রাখা হলে হেবিয়াস করপাস রিট করা যায়। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতার ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।
রিট অব ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা না করলে হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব সার্টিওরারি: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন।
রিট অব প্রহিবিশন: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করে, তাহলে হাইকোর্ট তাদের সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব কো-ওয়ারেন্টো: কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কোনো সরকারি পদে থাকলে এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করেন।
মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট মামলার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট মামলা করতে পারেন। সেই থেকে আমাদের দেশে জনস্বার্থে রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।
গত কয়েক দশকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় অভাবনীয় বহুমাত্রিক সাফল্য এসেছে। রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মাধ্যমেই দেশের নদীগুলো পেয়েছে ‘জীবন্ত সত্তা’র হিসেবে স্বীকৃতি।
সেই সঙ্গে দেশের বহু নদ-নদী দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা পাহাড় কাটা রোধ হয়েছে হাইকোর্টে করা রিট মামলার রায় বা আদেশের মাধ্যমে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মানবিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় হাইকোর্টে একজন ব্যক্তির করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো মানুষ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ