০৯:১৪ পি.এম
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ৫ আগস্টের পর কাজের ঠিকাদার নিখোঁজ হয়ে গেছেন। এর পর থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘর নলডাঙ্গা পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি এবং ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই।
২০২৩ সালে জরাজীর্ণ পুরোনো পোস্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের আওতায় নলডাঙ্গা পোস্ট অফিস ভবনের সংস্কারের জন্য টেন্ডার অনুষ্ঠিত হয়। ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রধান অফিসকক্ষের দরজা-জানালা নেই, এবং ভেতরে কাঠ ও লাকড়ির স্তূপ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, সেটি কর্মীদের সাইকেল ও মোটরসাইকেল রাখার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
অফিসের পাশে মাত্র ১০ বাই ১০ ফুটের একটি কক্ষে আটজন ডাককর্মী চারটি টেবিল পেতে ঠাসাঠাসি করে কাজ করছেন। এর পাশের প্রায় ৬ ফুটের আরেকটি ছোট কক্ষে দাপ্তরিক কাজ চালাচ্ছেন উপজেলা পোস্টমাস্টার। এতে ডাক বিভাগের কর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সরকারি-বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথি গ্রহণ ও বিলি-বিতরণেও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জরাজীর্ণ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের মূল প্রবেশদ্বারের দরজা ও জানালা নেই। ভবনের ভেতরে কাঠ-লাকড়ির স্তূপ এবং কর্মীদের মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। পাশের ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে চলছে অফিসের কার্যক্রম।
উপজেলা পোস্টমাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান জানান, তিনি এক বছর আগে এখানে যোগ দিয়েছেন। তার যোগদানের আগ থেকেই ভবনটি এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ২০২৩ সালে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছিল এবং ঝিনাইদহের এক ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদার একদিনও এখানে আসেননি এবং ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের নামও তিনি জানেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাককর্মী জানান, ঠিকাদার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। ৫ আগস্টের পর ভবনের কাজ বন্ধ রেখে তিনি চলে যান এবং এরপর আর ফিরে আসেননি।
ঝিনাইদহ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রিয়াজুল হক জানান, তিনি কয়েক মাস আগে এ কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। কালীগঞ্জ প্রধান পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজ কেন বন্ধ বা ঠিকাদার কে ছিলেন, তা তিনি বলতে পারেননি। তবে কালীগঞ্জ পোস্ট অফিসের মতো অনেক উপজেলার পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজও বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জরাজীর্ণ পুরোনো পোস্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের সাব-ইঞ্জিনিয়ার তাইবুর রহমান জানান, তিন মাস আগে তিনি কালীগঞ্জ প্রধান পোস্ট অফিস ভবন পরিদর্শন করেছেন। ২০২৩ সালে ভবন সংস্কারের টেন্ডার হয়েছিল। তবে কাজের বরাদ্দ বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি বলতে পারেননি। তিনি জানান, খুব শিগগিরই কাজ আবার শুরু হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ জানান, ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন বা কাজ বন্ধ রয়েছে— বিষয়টি তিনি প্রথমবারের মতো জানতে পারলেন। পোস্ট অফিসের কর্মকর্তারাও কখনো সমস্যাটি নিয়ে তাঁর কাছে আসেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন