রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
হাসানগঞ্জ এলাকার ছাত্র-জনতা লাঠি হাতে সড়কে নেমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। ‘মাদকমুক্ত হাসানগঞ্জ চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং মাদকের আস্তানা উচ্ছেদের দাবিতে তারা হাসানগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ বাজারে ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ছাত্র-জনতা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকেরা হাতে লাঠি নিয়ে হাসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি হাসানগঞ্জ বাজার, খুজিয়ারমোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘মাদক ব্যবসা চলবে না’ এবং ‘ইয়াবার আস্তানা বন্ধ করো’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর সভাপতি আ. রহমান শিপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য বক্তারা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, হাসানগঞ্জকে মাদকমুক্ত করা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো এলাকার মানুষের দাবি। তারা বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অভিযান বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদকের উৎস, সরবরাহ ও বিক্রির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসানগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ থাকলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের শনাক্ত করে ধারাবাহিকভাবে আইনের আওতায় আনা উচিত।
সমাবেশ থেকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকাটিতে নজর রাখা হচ্ছে এবং যেখানে মাদকের সন্ধান পাওয়া যাবে, সেখানে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ‘একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে ঘোষণা করা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ‘গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে। পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেলের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির এই অবস্থান প্রকাশের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো প্রতিকৃতি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। পোস্টে তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—২৫ ডিসেম্বর ১৮৭৬ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮।
সেখানে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বার্তায় লেখা হয়, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’ এছাড়াও, তাকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের সরকারি নথি অনুযায়ী, জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দেশটির স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। নতুন রাষ্ট্রটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি একই বছরের মার্চে ঢাকা সফরে আসেন। সে সময় রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সমাবর্তনে তিনি দম্ভভরে ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। উপস্থিত ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিকভাবে ‘নো, নো’ ধ্বনি তুলে তার বক্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ জানায়। জিন্নাহর সেই মন্তব্য পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগণের আত্মপরিচয় ও ভাষার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হয়, যা পরবর্তী সময়ে বায়ান্নর রক্তক্ষয়ী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি করে।
ফেসবুকে এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই তা সাধারণ ব্যবহারকারী, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যে ব্যক্তির হাত ধরে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধিকার হরণের সূচনা হয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণের দাবিদার একটি প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে তার প্রতি এমন ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’ জানানো চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব।
সমালোচকরা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরছেন, দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোগতভাবে তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণকে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শোষণ করেছে। সেই শোষণ ও বৈষম্যের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ। ফলে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে জিন্নাহকে মহিমান্বিত করা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক চেতনার প্রতি সরাসরি অবমাননা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় হাতি অধ্যুষিত অঞ্চলকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) কার্যক্রমের প্রণয়ন এবং আধুনিক কলাকৌশলসম্বলিত সার্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরির জন্য পৃথক দুটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়সংলগ্ন মধুটিলা ইকোপার্ক এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ বন বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলার নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম। মূল আলোচনা বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনিরুল এইচ খান এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন আকন, পুলিশ সুপার এ. কে. এম. জহিরুল ইসলাম, ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ, ইউনুছ আলী দেওয়ান, মিজানুর রহমান, মো. শাহীন আলমসহ স্থানীয় এলাকার ভুক্তভোগী, ইআরটি সদস্য ও পরিবেশকর্মীরা।
সেমিনার দুটি সঞ্চালনা করেন তাওয়াকোচা বিটের বিট কর্মকর্তা ফাহিম মুনতাসির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় সকলের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বন বিভাগের উদ্যোগ বাস্তবায়নে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু এ সময় বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমরা লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসস্থল ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা জরুরি। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি চলবে। প্রথম দুই দিন হলগুলোতে এবং পরবর্তীতে প্রতি সপ্তাহে নেতাকর্মীরা হল ও একাডেমিক ভবন পরিষ্কার করবেন। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হবে।"
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ১২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার ও সোমবার (১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর) সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিলির দক্ষিণাঞ্চলে একটি বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে (নার্সিং হোম) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ১৬ জন বয়স্ক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত ও অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই তথ্যটি আল জাজিরার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে, দেশটির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত আরাউকানিয়া অঞ্চলের পিত্রুফকেন শহরের একটি একতলা বৃদ্ধনিবাসে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট শনিবার ভোরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনে মোট ২৬ জন বয়স্ক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। উদ্ধারকারীরা ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ১৬ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার বৃদ্ধনিবাসটির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধি না মানার পুরোনো অভিযোগ রয়েছে। পিত্রুফকেনের মেয়র জ্যাকলিন রোমেরো এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হোসে ব্রাভো জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত স্যানিটারি ও অগ্নি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে আসছিল। নিয়ম না মেনে পরিচালনা করার কারণে ২০১৯ সাল থেকে একাধিকবার জরিমানা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে স্থানীয় পুলিশ ও প্রসিকিউশন কাজ শুরু করেছে। চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে, দুর্ঘটনা এড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি দেশের সব নার্সিং হোমের নিরাপত্তা মান জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ