বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৫ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিমের কাছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাতের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবন ও অন্যান্য উপযুক্ত স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি সমন্বিত ‘সোলার পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি, আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই এবং সরকারি বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন ও করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান।
এছাড়া, প্রত্নতত্ত্ব, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কারিগরি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাছিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত মন্তব্য করেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার ছাদে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী, একজন শিশু এবং একজন সিএনজিচালক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী বটতলা টাইগার ব্রিকস সংলগ্ন সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আছেন— আখি (৩০), মো. জাকারিয়া (১২) এবং সিএনজিচালক জুয়েল (৪০)। তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এখনও জানা যায়নি।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—লাকী আক্তার (৩২), আবুল হোসেন (৬৫) এবং সেলিম (৩৫)। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেলের দিকে নান্দেশ্বরী বটতলা টাইগার ব্রিজসংলগ্ন পাকা সড়কে সিএনজি ও অজ্ঞাতনামা পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় সিএনজিচালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু ঘটে।
ধামরাই থানার কাওয়ালিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিএনজি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিএনজিচালক এবং দুইজন আরোহী ছিলেন বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার কর্তৃক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ‘অণুজীব জানুন, নিরাপদ থাকুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শ্রীরামপুরের তমালতলা এলাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির শুরুতে সংগঠনের সেক্রেটারি অভিনন্দন পাল সীমান্ত অণুজীবের পরিচয়, দৈনন্দিন জীবনে এর ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট হাফসা বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় ১০ বছর আগে আমাদের এই নিশ্চিতপুর গ্রামের মানুষ কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন অনেকের বাড়িঘর অনুন্নত হলেও প্রত্যেক ঘরে বাথরুম রয়েছে।"
পরে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট খন্দকার মেহেদী হাসান অণুজীব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির পরবর্তী পর্বে অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মুরশিদা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ক্ষতিকর অণুজীব, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেন। সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপিত এই আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অণুজীব ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অভিনন্দন পাল সীমান্ত গণমাধ্যমকে জানান, "এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অর্জিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন ও নিরাপদ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।" শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে একটি অর্থবহ জনসচেতনতামূলক উদ্যোগে পরিণত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। কলেজ গেইট এলাকার মাহাবুব আলমের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে কোতয়ালী থানা পুলিশ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাহাবুব আলমকে আটক করা হয়। তাদের দাবি, মাহাবুব আলমের হেফাজত থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া, মাদক কারবারির অভিযোগে মো. মানিক উদ্দীন, মো. আকবর আলী, মো. জুয়েল এবং মো. সিদ্দিকুর বাবুকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, দাঙ্গা সংগঠনের অভিযোগে মো. মাসুদ রানাকে এবং মাদক সেবনের অভিযোগে মো. রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া, সিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে মো. আবুল কালামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি শহরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি, শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং বিভিন্নভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলি তদন্তের জন্য সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার একদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এবং আন্তঃইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদান না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের হয়রানি করে বিদ্যালয়প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা করে গ্রহণ এবং নির্বাচনের প্রায় চার মাস পর ওই অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের ডিভাইস ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৯০ হাজার টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতের বরাদ্দ নিয়েও বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়প্রতি ৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটিতে ২ লাখ এবং আটটিতে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুনরায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে বাস্তবে কোনো কাজ না করে ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই অর্থবছরে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিকবার ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’সহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তির মাধ্যমে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এছাড়া, প্রাক-প্রাথমিক খাতে বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দ করা ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই না থাকা এবং নেট চালু না করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে যথাযথ প্রত্যয়ন গ্রহণ না করে কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের কনটিনজেন্সি বই, পরিবহন, টিএ এবং বিভিন্ন দিবস পালনসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত/সংশ্লিষ্ট হিসাবে নিয়ে যথাযথভাবে টাকা প্রদান করা হয়নি। বাকি অর্থ নিজে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯৬ জন শিক্ষককে চিত্তবিনোদন ভাতা প্রদান না করে কালক্ষেপণ এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখেন এবং শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার পর বিল ছাড় করেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ৭-৮ জন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে প্রশিক্ষণ, সরকারি বরাদ্দ বণ্টন ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো বণ্টন করেন। এবং বণ্টনের সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর কারণে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, তারা যেসব অভিযোগ করেছেন, আমার সবগুলোর অফিস ডকুমেন্টস আছে। যথাযথ নিয়মে খরচ হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আমার কাছে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসেনি। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা তদন্ত করে দেখবে। আমার কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ