ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবরার ফাহাদ হত্যাকে ফ্যাসিবাদের উদাহরণ বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল


আবরার ফাহাদ হত্যাকে ফ্যাসিবাদের উদাহরণ বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনাটি ফ্যাসিবাদের চরম উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আগামী ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক দিক তুলে ধরতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে, এমনটি মনে করতেন। কিন্তু অপরাধীকে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, যা হত্যা মামলার রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এ মামলায় আমাদের অবস্থান হচ্ছে- আমরা মামলায় কোনো বিলম্ব ঘটাতে চাই না। নাগরিকের দ্রুত বিচার প্রাপ্তির যে সাংবিধানিক অধিকার, আমরা চাই সেটা নিশ্চিত হোক।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যখন এই মামলার শুনানি শুরু হবে, তখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো রকম বিলম্ব ঘটানো হবে না। আমরা একদিনও শুনানি মুলতবি চাইব না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হওয়া উচিত। মানুষ এই মামলার রায় কার্যকর দেখতে চায়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মম এই হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

এদিকে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা কেউ কেউ আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবি শাস্ত্রির কড়া সমালোচনা, ইমরান খানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের অমানবিক আচরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


রবি শাস্ত্রির কড়া সমালোচনা, ইমরান খানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের অমানবিক আচরণ

২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এই সমালোচনার তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক রবি শাস্ত্রি।

রবি শাস্ত্রির মতে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ বাদ দিলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সম্প্রতি রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

শাস্ত্রি বলেন, ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা তার প্রাপ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইমরান শুধুমাত্র পাকিস্তানের একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং ক্রিকেটবিশ্বেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি।

ইমরানের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শাস্ত্রি বলেন, ক্রিকেটে তার অবদান অসাধারণ। তিনি ইমরানকে নিজের দেখা অন্যতম সেরা নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন। তরুণদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানের অসাধারণ দক্ষতা ছিল বলে মন্তব্য করেন শাস্ত্রি। তার নেতৃত্বেই তুলনামূলক তরুণ একটি পাকিস্তান দল ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল—সেটিও স্মরণ করেন তিনি।

ইমরান কবে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে শাস্ত্রি আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি দ্রুতই মুক্তি পাবেন এবং এরপর তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ইমরানের অবস্থাকে অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে যোগ দেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান।

দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে একাধিক মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান এবং তার দল এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গত আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই দাবিতে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের হয়ে ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট এবং ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার হিসেবে তার অবস্থান এখনো অমলিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি ড. ফরাসউদ্দিনের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি ড. ফরাসউদ্দিনের সাক্ষাৎ

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, প্রধান উপদেষ্টা ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারর্সন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

সাক্ষাৎকালে, অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃত্তি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

রাষ্ট্রপতি সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময়, অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের সাড়া না পেয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


সরকারের সাড়া না পেয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবস্থান

টানা দুই সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আন্দোলনের ১৫তম দিনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। এ কর্মসূচি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে।

চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর চুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল— ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’। পাশাপাশি ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ -সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, "আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে।"

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, "চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, বরং একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাচ্ছে।"

বক্তব্যে আরও বলা হয়, "কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষাপরিবেশ ফিরিয়ে আনাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালের পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান তারা। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।"

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুল কবির আবরার বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতদিন ধরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। সরকারের এমন নীরবতা ও উদাসীনতার আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। বাধ্য হয়েই আজ ক্যাম্পাসের বাইরে এসে আমাদের দাবি জানাতে হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রুত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হোক এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা হোক।"

প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এর পর থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তবে টানা ১৫ দিন ধরে আন্দোলন চললেও এখনও দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় চুয়েটের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে ৩০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে ৩০ জন নিহত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) কঙ্গো নদীতে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নৌকার মধ্যে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইকুয়েটর প্রদেশের এনগোম্বে-লুকোলেলা এলাকার নিকটবর্তী স্থানে নৌকা দুটির সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন পানিতে ডুবে মারা যান। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে।

ইকুয়েটর প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসপিন এমপুতু জানান, ‘দিয়ু সে কাশে’ নামে একটি ধাতব নৌকা রাজধানী কিনশাসা থেকে আসার সময় ‘এইচবি সুপার ভিক্টোর’ নামের কাঠের নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দ্বিতীয় নৌকাটি বাসিঙ্গা থেকে আসছিল।

সংঘর্ষের পর অধিকাংশ যাত্রী পানির নিচে আটকা পড়ে এবং একটি নৌকা ডুবে যায়। নিহতদের ইতোমধ্যে দাফন করা হয়েছে বলে জানান এমপুতু।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, রাতে নৌযান চলাচলের সময় দেশটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, কিনশাসা থেকে আসা নৌকাটিতে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ছিল।

ডিআর কঙ্গোতে নৌদুর্ঘটনা ঘটার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, রাতে নৌযাত্রা, দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এর আগে জুলাই মাসে কাসাই প্রদেশে সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%