মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১১ পি.এম
মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা উপলক্ষে এক ঐতিহ্যবাহী বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে সবসময় আগ্রহী এই তারকা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্বামী রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে বিশেষ অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন সামান্থা।
এই বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে সামান্থা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা অনুভব করেন। যদিও সব রীতিনীতির সুনির্দিষ্ট তাৎপর্য সব সময় বুঝতে পারেন না, তবুও এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের শক্তির ওপর তার আস্থা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে হলুদ রঙের পোশাকে দেখা গেছে সামান্থাকে। তার হালকা মেকআপ ও মানানসই গয়না ছিল। ছবিগুলোতে সামান্থা ও রাজ নিদিমোরুর পাশাপাশি অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও দেখা গেছে। বিশেষ এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সামান্থা।
সন্তানের অপেক্ষায় থাকায় অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকছেন না এই অভিনেত্রী। শিগগিরই তাকে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সেলিব্রিটি মাস্টারশেফ তামিল’-এর সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে। অনুষ্ঠানটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে স্ট্রিমিং হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে সামান্থা রুথ প্রভুর জীবনে অভিনয় কিংবা নতুন কোনো প্রজেক্টের চেয়ে মাতৃত্বের অধ্যায়ই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী এই বিশেষ আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রিয় তারকার নতুন জীবনের এই অধ্যায়কে ঘিরে শুভেচ্ছাও জানাচ্ছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান বাজারে অভিযান পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সিরাজদিখান বাজারে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানের সময় তালুকদার ফুডস বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, কেক এবং পাউরুটি সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া, এসব পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এই কারণে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আল আমিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের নির্দেশও দেওয়া হয়।
রাম কৃষ্ণ ভান্ডারে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাম কৃষ্ণ দাসকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, মাহিয়া ফাতিহা ফল স্টোরে ফলের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মালিক সিজান মাহমুদকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এ বি এম মিজানুল হক এবং সিরাজদিখান থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা প্রদান করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুরুষদের মধ্যে কিছু শারীরিক এবং যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা বিদ্যমান, যা নিয়ে অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তবে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এসব সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অণ্ডকোষের নানা সমস্যা
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হাইড্রোসিল, হার্নিয়া, টেস্টিকুলার টরশন, ভেরিকোসিল এবং টেস্টিকুলার সিস্ট।
হাইড্রোসিলের ফলে অণ্ডকোষের চারপাশে তরল জমে ফুলে যেতে পারে। হার্নিয়ার ক্ষেত্রে হাঁচি, কাশি বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় পেটের ভেতরের অংশ অণ্ডথলির দিকে নেমে আসার অনুভূতি হতে পারে। ভেরিকোসিলের ফলে অণ্ডকোষের শিরাগুলো ফুলে কৃমির মতো দেখাতে পারে।
অন্যদিকে, টেস্টিকুলার টরশন হলে অণ্ডকোষের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালি ও অন্যান্য অংশ পেঁচিয়ে যেতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার বিষয়। যদি অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা দ্রুত ফুলে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
অণ্ডকোষে নতুন কোনো গাঁট, আকার বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। এসব পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
গাইনোকোমেশিয়া: পুরুষদের স্তন বৃদ্ধি
বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ছেলেদের স্তনের টিস্যু কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, যা গাইনোকোমেশিয়া নামে পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রেই এটি সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে যায়।
তবে, যদি স্তন অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়, ব্যথা অনুভূত হয়, শক্ত গাঁট থাকে বা দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন পরীক্ষা, ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাত
পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED) এবং প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন (PE)। ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে যৌনমিলনের জন্য প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা অর্জন বা ধরে রাখতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে, প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশনে প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বীর্যপাত ঘটে, যা দাম্পত্য জীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সাময়িক মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, কিছু ওষুধ বা হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
পুরুষদের শারীরিক ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই সমস্যা লুকিয়ে রাখেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উপহাস বা বুলিংয়ের আশঙ্কায় চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। অথচ দীর্ঘদিন সমস্যা গোপন রাখলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য ও জীবনসঙ্গীর সহানুভূতিশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বিদ্রূপ না করে প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন দেওয়া উচিত।
কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
অণ্ডকোষের সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং দ্রুত বীর্যপাতের ক্ষেত্রে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে সার্জন এবং হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, এসব সমস্যাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে না দেখে অন্যান্য রোগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যা ৮৭ বছর ধরে অক্ষুণ্ন ছিল রিভার প্লেটের রেকর্ডকে ভেঙে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলের পক্ষ থেকে ঘরোয়া লিগে টানা ৯৪ ম্যাচে গোল করার কীর্তি অর্জিত হয়েছে।
আল নাসরের এই রেকর্ড ভাঙতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর আল-রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের জয় দিয়ে তাদের টানা গোলের অভিযান শুরু হয়। এরপর সৌদি প্রো লিগের প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে দলটি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর আবহারের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়লাভের সময় রোনালদোর করা গোলের মাধ্যমে আল নাসর ৯৩ ম্যাচের পুরোনো রেকর্ডে সমতা অর্জন করে। এরপর আল খালিজের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আল খালিজের বিপক্ষে গোল করে আবদুল্লাহ আল-হামদান এই কীর্তি গড়েছেন, যা টানা ৯৪ লিগ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড। এর ফলে ১৯৩০-এর দশক থেকে টিকে থাকা আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটের রেকর্ড ভেঙে যায়।
রিভার প্লেট ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত টানা ৯৩টি ঘরোয়া লিগ ম্যাচে গোল করেছিল। সেই বিখ্যাত দলের সদস্য ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার হোসে ম্যানুয়েল মোরেনো ও অ্যাডলফো পেদেরনেরা। ওই ৯৩ ম্যাচে রিভার প্লেটের গোলসংখ্যা ছিল ৩০১।
৮৭ বছর পর আল নাসর সেই কীর্তিতে ছেদ টানল। রেকর্ড গড়ার এই অভিযানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি আল নাসরের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছেন। রেকর্ড স্পর্শ করার ম্যাচে আবহার বিপক্ষে গোল করে নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছিলেন পর্তুগিজ এই তারকা।
তবে রিভার প্লেটের আরেকটি কীর্তি এখনও অক্ষত রয়েছে। শুধু লিগ নয়, সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তারা টানা ৯৬ ম্যাচে গোল করেছিল। এর মধ্যে ৯৩টি লিগ ম্যাচের পাশাপাশি পেনিয়ারোলের বিপক্ষে দুটি এবং রোজারিও সেন্ট্রালের বিপক্ষে একটি কাপ ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সেই রেকর্ড আপাতত অক্ষত থাকলেও ঘরোয়া লিগে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে আল নাসর। ৮৭ বছর ধরে রিভার প্লেটের দখলে থাকা রেকর্ড এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের সৌদি ক্লাবটির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের 2-K চাইল্ডকেয়ার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে প্রায় ২ হাজার শিশু পূর্ণদিবস ও বছরব্যাপী বিনামূল্যের সেবা পাচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুলের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব পরিবারের জন্য 2-K সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ছাড়া চার বরোর নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশুদের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি কাজে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
এই কর্মসূচির চাহিদা যে কতটা বেশি, তা আবেদনসংখ্যাতেই স্পষ্ট। প্রথম ধাপে মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি আসনের বিপরীতে ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি আসনের জন্য প্রায় তিনটি আবেদন ছিল। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত পরিবারগুলোর ৮২ শতাংশ তাদের পছন্দের শীর্ষ তিনটির মধ্যে কোনো একটি কর্মসূচিতে জায়গা পেয়েছে এবং অর্ধেকের বেশি পরিবার পেয়েছে তাদের প্রথম পছন্দের আসন।
পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাশ্রয়ও এই কর্মসূচির অন্যতম বড় দিক। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের হিসাবে, একটি বিনামূল্যের 2-K আসন একটি পরিবারকে গড়ে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। কর্মসূচির উদ্বোধনের দিন মামদানি বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারগুলো অন্তত ২০ হাজার ডলারের বার্ষিক চাইল্ডকেয়ার ব্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
উদ্বোধনের সময় মামদানি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে বাবা-মায়েদের সন্তানদের চাইল্ডকেয়ারের খরচ নিয়ে আগের মতো দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি এটিকে নিউইয়র্কের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে তুলে ধরেন। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছু পরিবার জানিয়েছে, বিনামূল্যের এই সেবা তাদের কাজে ফেরার বা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে শুরুতেই চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানান, কিছু কেন্দ্রে ১০০ জনের বেশি শিশুর ওয়েটলিস্ট ছিল এবং অতিরিক্ত আসন তৈরি হওয়ায় ওয়েটলিস্ট থেকে পরিবারগুলোকে অফার দেওয়া শুরু হয়েছে।
কর্মসূচিটি চালুর আগে অবশ্য কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও সামনে এসেছিল। চাইল্ডকেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ পরিশোধে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্টে মামদানি প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে ৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং চাইল্ডকেয়ার প্রদানকারীদের পেমেন্ট দ্রুত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে।
2-K কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ আরও বড়। নিউইয়র্ক স্টেট প্রথম বছরে এই কর্মসূচিতে ৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে। ২০২৭ সালে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার শিশুকে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডও তখন অন্তর্ভুক্ত করার কথা। গভর্নর হোকুল জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বছরে এ কর্মসূচির জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
মামদানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো তার প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিউইয়র্ক সিটির যে কোনো পরিবারের জন্য 2-K আসন নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সেন্টার, কর্মী ও অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের নতুন 2-K কর্মসূচি শুধু দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; কর্মজীবী পরিবারগুলোর চাইল্ডকেয়ার ব্যয় কমানো এবং বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে থাকার সুযোগ তৈরির একটি বড় সামাজিক কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রথম ধাপের বিপুল চাহিদা এর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ