শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৭ পি.এম
ঢাকা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা অবস্থায় থাকতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। শুক্রবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় এবং শনিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে প্রতিদিন কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে, যেকোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, না জানার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তারিখে দেখে নিন কোন কোন মার্কেট, শপিংমল এবং এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, আজিমপুর সুপার মার্কেট, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার এবং শরীফ ম্যানশন।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট
শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, ধোলাইপাড়, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ এবং শাঁখারী বাজার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায়, বেসরকারি খাত থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এসব প্রকল্পের জন্য প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য ৯ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বিদ্যুতের দাম পূর্বে চুক্তিবদ্ধ একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সরকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায়, ব্যাটারিসহ ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ শতাংশ মুনাফার হার এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।
এছাড়া, বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ করছে। তিনটি প্রকল্পই ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্পটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া, বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মৌলভীবাজার সদর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রচলিত, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।
তিনি আরও জানান, বিপিডিবি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি) ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিপিডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে বিপিডিবি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপিডি দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে নিজেদের ভবন ও জমিতে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল। কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী মন্তব্য করেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।
সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
হাসান মেহেদী বলেন, সরকার যদি সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সকাল থেকে অফিসে বসে কাজ করা শুরু হয়। একবার চেয়ারে বসার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই অনুভব করেন না। কাজের চাপের মধ্যে দুপুরের খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া চেয়ার ছাড়ার সুযোগও থাকে না। এইভাবে প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা এখন অনেকের জীবনের একটি নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়। দিনের শেষে কিছুক্ষণ হাঁটলেই সব ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমাতে হবে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কেন ঝুঁকি বাড়ে
দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন হৃদ্রোগ, স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় শরীরের নড়াচড়া কম থাকলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা কয়েক ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকলে শরীরের বড় পেশিগুলোর কার্যক্রম কমে যায়। একই সঙ্গে শরীরের শক্তি ব্যয়ও কম হয়। প্রতিদিন এমন জীবনযাপন করলে ওজন বাড়া এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাহলে শুধু দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে ব্যায়াম করলেই হবে না। দিনের বড় সময়টা কীভাবে কাটছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটবেন
নিয়মিত হাঁটা শরীর ও মনের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে প্রতিদিন ঠিক ৮ হাজার বা ১০ হাজার পা হাঁটতেই হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রমের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
অর্থাৎ দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা উপকারী হলেও শুধু ওই সময়টুকুর ওপর নির্ভর করে সারাদিনের দীর্ঘ বসে থাকার অভ্যাসকে নিরাপদ ভাবা ঠিক নয়।
প্রতি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টায় উঠুন।
দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করতে হলে একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে চেয়ার ছেড়ে ওঠার অভ্যাস করা ভালো।
সম্ভব হলে প্রতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি বা শরীর নড়াচড়া করা যেতে পারে। অল্প সময় দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়ামও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ছোট বিরতি নেওয়া সম্ভব। এর জন্য আলাদা করে অনেক সময় বের করার প্রয়োজন নেই।
অফিসেই বাড়াতে পারেন হাঁটাহাঁটি
শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে সবসময় আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে হবে—এমন নয়। অফিসের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা যায়।
যেমন—
১. সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন
২. দূরভাষে কথা বলার সময় হাঁটুন
৩. ছোটখাটো অফিসের কাজে নিজে উঠে যান
৪. দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন
৫. কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন
৬. সুযোগ পেলে হালকা শরীর টানটান করার ব্যায়াম করুন
এসব ছোট অভ্যাস দিনের মোট নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
শুধু দিনের শেষে হাঁটলেই হবে না
ব্যস্ত কর্মজীবনে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৯-১০ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করা মানুষের জন্য আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু দিনের শেষে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটলেই দায়িত্ব শেষ নয়।
সারাদিনে যতটা সম্ভব বসে থাকার সময় কমাতে হবে। কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা শরীর নড়াচড়া করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্য নির্দিষ্ট কোনো হাঁটার সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষে হাঁটার পাশাপাশি পুরো দিনজুড়েই শরীরকে যতটা সম্ভব সচল রাখুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি চিঠি কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দ নয়; সময়ের সাথে সাথে এটি হয়ে উঠতে পারে শৈশবের স্মৃতি, অনুপ্রেরণার কাহিনী কিংবা স্বীকৃতির একটি দলিল। দুই দশকেরও বেশি আগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া এক শিশুর কাছে পৌঁছেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরিত এমন একটি চিঠি।
২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল—‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ এর সাথে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে দুটি বইও পাঠানো হয়েছিল।
সময়ের প্রবাহে সেই শিশু এখন বড় হয়ে গেছেন, জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে, তবে শৈশবে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সেই চিঠিটি আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
চিঠির শেষে স্বাক্ষরের আগে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিশুদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন যে বাক্যে তা ছিল—‘তোমাদের আপনজন।’ ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ চিঠিটি পোস্ট করে লিখেছেন— ‘সেই থেকে বেগম জিয়া হয়ে উঠলেন একান্ত কাছের একজন।’
প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উৎসাহিত করা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই সময়ের উদ্যোগগুলোর একটি ব্যক্তিগত স্মারক হয়ে আছে ছাইফুল্লাহর কাছে থাকা বেগম জিয়ার সেই চিঠি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে একটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়া ওই বার্তায় কেবল একটি বৃত্তির সাফল্যকে অভিনন্দন জানানো হয়নি; বরং তাকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।
চিঠিটি শুরু হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে। এরপর লেখা হয়—
‘প্রিয় মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্,
আমার স্নেহ ও শুভেচ্ছা নিও। আমি জেনে খুশি হয়েছি ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় তুমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছো। তোমার সাফল্যে পরিবারের অন্যান্য প্রিয়জনের মতো আমিও খুশি হয়েছি। তাই আমি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে তোমাকে দুটি বই উপহার হিসেবে পাঠালাম। আশা করি, এ উপহার তোমাকে বই পড়ায় আরো উৎসাহিত এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আমি আশা করি, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে তুমি আরো মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করবে। আমি তোমার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।’ তোমাদের আপনজন, এরপর (স্বাক্ষর) দেওয়া হয়।
বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ চিঠিটি পোস্ট করে আরও লিখেছেন, ‘২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার এই অসাধারণ কাজটি করেছিল। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেত তাদের বইয়ের সাথে এই চিঠিটি পাঠাতো। এটি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি।
কি যে অনুপ্রেরণাদায়ী ছিল উদ্যোগটি। আমার কিশোর মনে সেই যে নাড়া দিয়েছিলেন বেগম জিয়া আর কখনও পর হননি, আপন মানুষ হয়েই থেকে গেলেন; এমনকি তার মৃত্যুর পরও। আশা করি, এই বিএনপি সরকার একই কাজটি পুনরায় করবে।
প্রসঙ্গক্রমে এই প্রতিবেদক মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ’ থেকে ২০০৩ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় আমি জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করি।
তিনি জানান, আমাদের ব্যাচে ১০ জন ট্যালেন্টপুল ও ৮ জন সাধারণ গ্রেড মিলে মোট ১৮ জন বৃত্তি পায়। তখন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা মানে বিশেষ কিছু। যারা বৃত্তি লাভ করে তাদের নিয়ে চারিদিকে প্রশংসার বন্যা বয়ে যেত।
পত্রিকার পাতায় বেরুত ছবি সংবলিত খবর। কারণ, নকলমুক্ত পরিবেশে অত্যন্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তখন সেই পরীক্ষা হত।
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিঠি পাওয়ার স্মৃতিচারণ করে ছাইফুল্লাহ বলেন, ‘জুনিয়র বৃত্তির রেজাল্ট হয়েছে কিছুদিন আগে। একদিন ক্লাস চলাকালে হেডস্যার (প্রয়াত নুরুল কবির) ক্লাসে উপস্থিত হন। তার চোখেমুখে আনন্দের রেশ।
গমগমে কণ্ঠে তিনি বললেন-এ বছর যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছ তারা সবাই অফিসে চলে এসো, তোমাদের জন্য একটি বিশেষ সারপ্রাইজড আছে। আমরা হেডস্যারের পিছু পিছু গেলাম।
স্যারের টেবিলে খুব সুন্দর কিছু প্যাকেট সাজিয়ে রাখা ছিল। হেডস্যার আমাদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বললেন- ‘প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তোমাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। খুব মূল্যবান উপহার। বই আর চিঠি।’
‘আমরা আনন্দে শিক্ষকদের কদমবুছি করলাম। পরে স্যাররা আমাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্যাকেট তুলে দিলেন। সেই প্যাকেট বাসায় নিয়ে খোলার ধৈর্য আমাদের নেই।
ক্লাসে গিয়ে খুলে দেখি। নিচে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর। কী সুন্দর টানা টানা সেই লেখা! সেদিন আমার কিশোর মনে বেগম জিয়া নামে একজন মানুষ যে জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটি আর কখনও নড়চড় হয়নি। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ