শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে একটি জঙ্গল থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের পুত্র।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে তদন্তের জন্য পুলিশ তুহিন নামের এক সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করে।
কুমিল্লার কোটবাড়ি থানার ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভুঁইয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমের সাথে তুহিনকে দেখা যায়। তারা প্রায় এক ঘণ্টা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় ছিল এবং পরে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার দিন অপ্রতীমের সাথে তুহিনের ম্যাসেজিংও হয়েছে।
এছাড়া, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইফোনের জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তিনি বলেন, "আমরা অনেকটা নিশ্চিত এ কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।"
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু অপ্রতীম। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসন তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি ঘর থেকে পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলির মধ্যে রয়েছে প্রবাসী এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী এবং দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশু। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যা করার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকার জান্নাকান্দি গ্রামের একটি বন্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, প্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশু।
পুলিশ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একরাম হোসেন প্রায় দুই মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের কাছে যান। পরে ঘরের জানালার পাশে টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান ফ্যানের সঙ্গে একরামের মরদেহ ঝুলছে এবং মেঝেতে স্ত্রীর ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রাথমিকভাবে প্রিয়াঙ্কার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকেও ইট দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনও তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন বলেন, "পাশেই ডেকোরেশনের কাজ করছিলাম। চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যাই। তখন দেখি ঘরের টিনের বেড়া কাটা। পরে তাকিয়ে দেখি একরাম ভাই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে আর ভাবী ও তার বাচ্চা নিচে পড়ে আছে।"
স্থানীয় তোফাজ্জল জানান, "রাতে পাশেই বক্স বাজছিল। সকাল ৯টা-১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে দেখা যায় একজন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আর দুজন নিচে পড়ে আছে। তাদের আর্থিক কোনো সমস্যা ছিল না তবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা কেন তাদের দুপুর ১টার দিকে জানানো হলো। তারা মনে করছেন, মেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, "দুই দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে শুধু বলেছে, স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে। তবে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। আমার ধারণা, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।"
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, "আমার মেয়েকে এই বাড়ির যারা আছে, পুত্রা ঝিয়ারি (প্রিয়াঙ্কার দেবর, ও ননদ), ঝিয়ারির জামাই (ননদের জামাই) ষড়যন্ত্র কইরা মারছে। আমার জামাই (প্রিয়াঙ্কার জামাতা) এর সাথে কোনো অবনতি (অমিল) নাই এটা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।"
তিনি দাবি করেন, প্রিয়াঙ্কার সাথে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, "মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পর এবার একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকে বদলি করা হয়েছে। একই পদমর্যাদার আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির এক অফিস আদেশে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আদেশের ভিত্তিতে, গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার হোসাইনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডেমরা-জোনাল টিম), গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া, গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পীকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গুলশান জোন), গুলশান বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফারজিনা নাসরিনকেও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পল্লবী জোনাল টিম), গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চার কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদে ও কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে এক হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু সম্পর্কিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৮৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৫ জন, খুলনা বিভাগে ২৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন রয়েছেন।
বর্তমান বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৬০ হাজার ৩৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এবং চলতি বছরে মোট ৫৬ হাজার ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩২।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ২৩তম ইন্টার্নশিপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (ডিভিএম-৬০) ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিশ্বের চারটি দেশে ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
এ বছর ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদেশেও ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে চারজন এবং নেপালে তিনজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ।"
তিনি আরও বলেন, "ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেব। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে, সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, "আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, "শিক্ষকরা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, বাকৃবির সব শিক্ষক তোমাদের সঙ্গে আছেন। জনগণের অর্থে অর্জিত জ্ঞান এখন কাজে লাগানোর সময়। কীভাবে কৃষক ও খামারিদের সেবা দেওয়া যায় এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেদিকে তোমাদের সচেতন থাকতে হবে। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা ইন্টার্নশিপের এই সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ