ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদপুরে মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ৭ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ


চাঁদপুরে মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ৭ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। জব্দ হওয়া জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে চাঁদপুরের আনন্দবাজার, দাশাদি খাল, শহর মালি, লালপুর, ৩ নম্বর কয়লা ঘাট, চাঁদপুর মোহনা, গাজীর টেক, মিয়ার বাজার, কানুদি ও আমিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দ করা জাল বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৭০ মিটার অবৈধ জাল এবং অন্যান্য ২২টি জাল জব্দ করা হয়েছে। এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

চাঁদপুর নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফায়িজ কাফী জানিয়েছেন, ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে মাছ আহরণ প্রতিরোধ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষার জন্য সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে নৌবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মৎস্য বিভাগও পালাক্রমে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশও জব্দ করা হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে নৌবাহিনী।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা বিসর্জনে ড্রোন-হেলিকপ্টার নজরদারিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা বিসর্জনে ড্রোন-হেলিকপ্টার নজরদারিতে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ও হেলিকপ্টার নজরদারিতে থাকবে।

দুর্গাপূজার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা, জনবহুল স্থান ও বড় বড় মণ্ডপগুলোর যাতায়াত রাস্তায় কৌশলগত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানিয়েছে, মণ্ডপকেন্দ্রিক নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরবাইক রোবাস্ট পেট্রোলিং ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার রোধে সাইবার উইংয়ের কঠোর নজরদারি থাকবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমী পেরিয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

এ উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) পরিকল্পনা সম্পর্কে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসআরবি সারাদেশে বহুমুখী ও কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গোয়েন্দা তৎপরতা রোধে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টার নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য হটলাইন চালু রয়েছে। মণ্ডপকেন্দ্রিক নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরবাইক রোবাস্ট পেট্রোলিং ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার রোধে সাইবার উইংয়ের কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে এসআরবির পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকায় দুর্গাপূজা চলাকালীন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় এসআরবির সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে এবং শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট ও বিশেষ টহল দল কাজ করছে।

উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকা, জনবহুল স্থান ও বড় বড় মণ্ডপগুলোর যাতায়াত রাস্তায় কৌশলগত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে পুলিশ ও এসআরবির পাশে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আইজিপি আরও বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোন মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

আইজিপি আরও বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

এছাড়াও দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক অপারেশন মো. আইয়ুব আলী বাসসকে জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সারাদেশে প্রতিমা নির্মাণস্থান, পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শনসহ আগাম নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮শ’৩৪জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামন্ডপে আটজন করে ও সাধারণ পূজামন্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মো. আইয়ুব আলী আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা ও অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন এবং যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি।

পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তি ও তদারকি জোরদার করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত এনটিএমসি’র বিশেষ অ্যাপসটি দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করলো পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিল ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের যোগদানে এই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে মোদি সরকারের প্রাথমিক প্রচেষ্টা কিছুটা সফল হলেও সিজেপি ও মূলধারার বিরোধী দলগুলো এখনো আন্দোলন জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য রাজধানীতে তিনটি নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজনের জন্য রাজধানীর তিনটি জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত স্থানগুলো হলো মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। এসব স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের নিয়মকানুন নিয়ে সংশোধিত নির্দেশনা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকেরা যাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য বিকল্প উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা পুলিশের একটি নির্দেশনায় বিক্ষোভ আয়োজনের স্থান ও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই নির্দেশনার কিছু অংশ সংশোধন করা হয়েছে।

সোমবারের নির্দেশে পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশোধিত কার্যপদ্ধতি বা এসওপি আলাদাভাবে জারি করা হবে।

সম্প্রতি ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক প্ল্যাটফরম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সুবাদে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট ভবনের নিকটবর্তী যন্তর মন্তর এলাকাটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন এই যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ শুরু করেছিল সিজেপি এবং সেই বিক্ষোভ সফলও হয়েছিল।

সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল সিজেপি। তবে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই কর্মসূচি করতে পারেনি সিজেপি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে আটক সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে ‘এক বছর শান্ত থাকার’ মুচলেকা দিয়ে গতকাল রোববার ছাড়া পেয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে ‘কোবরা গ্রুপ’ প্রধান সোহেল অস্ত্র ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে ‘কোবরা গ্রুপ’ প্রধান সোহেল অস্ত্র ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলোচিত ‘কোবরা গ্রুপ’ বা ‘সোহেল গ্রুপের’ প্রধান হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল খন্দকারকে বিদেশি রিভলভার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৭০ পুরিয়া হেরোইন (মোট ১০ গ্রাম) এবং একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় এসআরবি-১১।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১১-এর আদমজীনগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন বাহিনীটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।

এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যমতে, সোহেল খন্দকার দীর্ঘ সময় ধরে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট, লামাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কাঠেরপুলসংলগ্ন এলাকায় তিনি মাদক কারবারের একাধিক আস্তানা পরিচালনা করতেন বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের লেনদেন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এসআরবি-১১-এর দাবি, এসব গ্রুপের সদস্যদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়া হতো। অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পাশাপাশি স্থানীয় পোশাক কারখানা, ব্যবসায়ী ও ঝুট গোডাউনের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, গোডাউনে লুটপাট এবং ঝুট লুটের মতো ঘটনা ঘটানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মামলাতেও তিনি আসামি বলে জানানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন।

বাহিনীটি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সোহেল খন্দকারকে গ্রেপ্তারের পর তার হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, হেরোইন ও পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা, নতুন নিয়ম কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা, নতুন নিয়ম কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো ইলেকট্রনিক সুবিধা কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পায়, যা অনুমোদিত খাবার কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আয়সীমা ও সুবিধার নিয়ম কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি, গুয়াম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সাধারণ আয়সীমা অনুযায়ী একজনের পরিবারের মাসিক মোট আয় ১ হাজার ৭২৯ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ৩ হাজার ৫৭৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিট আয়ের সীমা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩০ ও ২ হাজার ৭৫০ ডলার। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ের আয়ের সীমা ভিন্ন। তবে এই সীমার মধ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না; অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হয়।

পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা:

১. একজন: মোট আয় ১,৭২৯ ডলার; নিট আয় ১,৩৩০ ডলার।

২. দুজন: মোট আয় ২,৩৪৫ ডলার; নিট আয় ১,৮০৪ ডলার।

৩. তিনজন: মোট আয় ২,৯৬০ ডলার; নিট আয় ২,২৭৭ ডলার।

৪. চারজন: মোট আয় ৩,৫৭৫ ডলার; নিট আয় ২,৭৫০ ডলার।

৫. পাঁচজন: মোট আয় ৪,১৯১ ডলার; নিট আয় ৩,২২৪ ডলার।

এখানে মোট আয় বলতে অনুমোদিত কর্তন বাদ দেওয়ার আগের আয় বোঝায়। নিট আয় হিসাব করার সময় কর্মসংস্থান, নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্ন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের কিছু অনুমোদিত ব্যয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কর্তন প্রযোজ্য হবে, তা পরিবারের পরিস্থিতি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল আইনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্ক এসএনএপি গ্রাহকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের প্রমাণ দিতে হতে পারে। শর্ত পূরণ না হলে নির্দিষ্ট তিন বছরের সময়কালে সাধারণত তিন মাসের বেশি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।

এসএনএপি সুবিধার ক্ষেত্রে অভিবাসন-অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন না। নাগরিকত্ব, নির্দিষ্ট অভিবাসন-শ্রেণি, বসবাসের সময় এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। পরিবারের কোনো সদস্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যদের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%