মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৬ পি.এম
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের ১২ দিনে প্রবাসীরা ১২৯ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের মাসের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ডলার বা ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এর আগে সদ্যবিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে।
এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পরবর্তী মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে আরো আনন্দময় করতে নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে খুব সহজেই পছন্দের ছবি থেকে স্টিকার তৈরি করে তা হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা সম্ভব। এজন্য আলাদা করে ডিজাইন করার প্রয়োজন নেই।
চলুন, নিজের ছবি দিয়ে স্টিকার তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানি।
যেভাবে তৈরি করবেন স্টিকার
প্রথমে মোবাইল ফোনের যেকোনো একটি ব্রাউজার খুলে ‘প্রিয় টপিক’ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সার্চ অপশনে গিয়ে ‘DIY’ লিখে সার্চ করতে হবে। সার্চের ফলাফলে প্রথম পোস্টটি খুললে পৃষ্ঠার একেবারে নিচের দিকে ‘কপি প্রম্পট’ অপশনটি পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করে প্রম্পটটি কপি করতে হবে।
এরপর চ্যাটজিপিটিতে প্রবেশ করে প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে ‘প্লাগইনস’ অপশনে গিয়ে ‘ক্রিয়েট ইমেজ’ নির্বাচন করতে হবে।
স্টিকার অপশন নির্বাচন
‘ক্রিয়েট ইমেজ’ অপশনে প্রবেশ করার পর প্রথমে ‘স্টিকার’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘ফটো’ অপশনে ক্লিক করে ফোনের গ্যালারি থেকে পছন্দের ছবিটি বেছে নিতে হবে। এই পর্যায়ে আগে কপি করা প্রম্পটটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
ছবি থেকে স্টিকার তৈরি
ছবি নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পর ‘জেনারেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই এআইয়ের সহায়তায় নির্বাচিত ছবি থেকে স্টিকার তৈরি হয়ে যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করার নিয়ম
স্টিকার তৈরি হয়ে গেলে ছবির ওপরে থাকা ‘অ্যাড টু চ্যাট অ্যাপস’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘অ্যাড টু হোয়াটসঅ্যাপ’ নির্বাচন করে ‘অ্যাড টু ইয়োর স্টিকারস’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই স্টিকারটি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে যাবে।
সবশেষে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে যেকোনো একটি চ্যাটে প্রবেশ করতে হবে। চ্যাট বক্সের পাশে থাকা স্টিকার আইকনে ক্লিক করলে তৈরি করা স্টিকারটি পাওয়া যাবে। এরপর বন্ধু কিংবা পরিচিতজনদের সঙ্গে কথোপকথনে সহজেই ব্যবহার করা যাবে নিজের ছবি দিয়ে তৈরি স্টিকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় মানুষের প্রিয়জনের সঙ্গে দূরবর্তী যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, খামের ভাঁজে লুকিয়ে থাকত প্রিয় মানুষের হাতের লেখা অজানা অনেক কথা। চিঠি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষায় অনুভূতি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বর্তমানে সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে, মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বার্তা। কিন্তু হারিয়ে গেছে সন্তানের থেকে মায়ের, প্রেমিক থেকে প্রেমিকার চিঠি পাওয়ার সেই চিরচেনা অপেক্ষা।
হারিয়ে যাওয়া এই সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী চিঠি উৎসব ও স্টাম্প প্রদর্শনী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে দিনব্যাপী এমন একটি ব্যতিক্রমি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা চিঠি বিনামূল্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কলম হাতে নিয়ে কেউ চিঠি লিখছেন মাকে, কেউ প্রিয়জনকে, কেউবা প্রাক্তনকে, প্রকাশ করেছেন মনের গোপন অনুভূতি।
চিঠি উৎসবে এসে সময়ের চাকায় পেছনে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা ইসলাম। মাকে চিঠি লিখতে গিয়ে তার মনে হয়েছে, তিনি ফিরে গেছেন নব্বইয়ের দশকে। সেই সময়ে প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় থাকতে হত মানুষকে, আর একটি চিঠি হাতে পেলেই আনন্দে মন ভরে উঠত।
ফাহিমা বলেন, "বর্তমানে আমরা আধুনিক যুগে বাস করছি, যেখানে চিঠি লেখার প্রচলন প্রায় হারিয়ে গেছে। আজকের আয়োজনে মাকে চিঠি লিখে মনে হচ্ছে, যেন নব্বইয়ের দশকে ফিরে গেছি। আগের দিনে মানুষ চিঠি লিখত, প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় থাকত এবং আবেগঘন মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিত। আজ চিঠি লিখে মায়ের সঙ্গে সেই সময়ের আবেগ অনুভব করতে পারছি।"
তিনি আরও বলেন, "কেউ বাবা-মাকে, কেউবা প্রিয়জনকে চিঠি লিখছেন। সব মিলিয়ে এটি একটি সুন্দর মুহূর্ত। আমি মনে করি, এই সংস্কৃতি ফিরে আসা উচিত। অন্তত এ ধরনের দিবস উপলক্ষে হলেও চিঠি লেখার প্রচলন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।"
শুধু স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া নয়, চিঠি উৎসব অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে মনের অব্যক্ত কথাগুলো প্রকাশের উপলক্ষ। মুখে বলা হয়ে ওঠেনি, এমন অনেক অনুভূতিই জায়গা করে নিচ্ছে কাগজের পাতায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুস সবুরের কাছে চিঠি লেখা তেমনই এক অনুভূতির প্রকাশ।
আব্দুস সবুর বলেন, "চিঠি লিখতে পেরে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারছি, যা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। চিঠি লেখার সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য। প্রিয়জন বা মনের মানুষের কাছে চিরকুট লিখে অনুভূতি প্রকাশের আলাদা আনন্দ রয়েছে। তাই চিঠি লেখার সংস্কৃতি আমাদের ধরে রাখা উচিত।"
শিক্ষার্থীদের এমন আবেগ ও আগ্রহের মধ্য দিয়ে চিঠি উৎসব যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুতগতির যোগাযোগের বাইরেও অনুভূতি প্রকাশের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে। যেখানে একটি চিঠি শুধু কয়েকটি বাক্যের সমষ্টি নয়; বরং তা হয়ে উঠতে পারে স্মৃতি, ভালোবাসা, অপেক্ষা আর না-বলা কথার একান্ত আশ্রয়।
আয়োজনটির উদ্দেশ্যও মূলত নতুন প্রজন্মকে সেই অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহমুদ বলেন, "একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল ডাকবিভাগ। সময়ের পরিবর্তনে চিঠি লেখার জায়গা দখল করে নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। চিঠি পাওয়া, খুলে পড়া, জমিয়ে রাখা এবং মাঝেমধ্যে আবার পড়ার যে আনন্দ, তা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।"
তিনি বলেন, "আমরা চাই, মানুষ আবার সেই আনন্দ ও আবেগের জায়গায় ফিরে আসুক। চিঠি লেখার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। আজ শিক্ষার্থীরা আসছেন, ঘুরছেন ও চিঠি লিখছেন। ডাকবিভাগ চিঠিগুলো সংগ্রহ করে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবে। যারা চিঠি লিখতে চান, তারা বিনামূল্যে প্রিয়জন বা পছন্দের মানুষের কাছে চিঠি পাঠাতে পারবেন।"
আল মাহমুদ মনে করেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মুঠোফোনেই এখন মানুষ সহজে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছে। এতে চিঠি লেখার প্রয়োজনীয়তা কমে গেলেও এর আবেগময় দিকটি নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে। সেই আনন্দের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চিঠি উৎসবের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ডাকটিকিট প্রদর্শনী। সেখানে বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস, ডাকবিভাগের চিঠি প্রকাশের ইতিহাস এবং সংগৃহীত চিঠির ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনী ঘুরে শিক্ষার্থীরা ডাকটিকিট ও চিঠির ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজন সম্পর্কে রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল বলেন, "এ ছাড়া ডাকটিকিট প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ডাকটিকিটের ইতিহাস জানার সুযোগ রয়েছে। এখানে ডাকবিভাগের চিঠি প্রকাশের ইতিহাস ও সংগৃহীত চিঠির ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে ডাকটিকিট ও চিঠির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।"
বর্তমানে চিঠির ব্যবহার কমে এলেও মানুষের অনুভূতি প্রকাশের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি উৎসব নব্বই দশকে চিঠি লেখার সেই অনুভূতিকেই নতুন করে সামনে এনেছে। কাগজ-কলমে লেখা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা খুঁজছেন পুরোনো দিনের স্মৃতি। হয়তো চিঠি পৌঁছাতে ডিজিটাল বার্তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে, কিন্তু চিঠির প্রতিটি শব্দে থেকে যাবে লেখকের আন্তরিকতা আর ভালোবাসার ছাপ। চিঠি উৎসবটি যেন হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ তৈরির কাজের মানের অসংগতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মানহীন কাজ বন্ধ রাখতে হবে এবং দক্ষ জনবল দিয়ে কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার ক্যারেজ শপে কোচ তৈরির কার্যক্রমে অসংগতি দেখে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "আপনারা কাজের তদারকি করেন না, কাজ বুঝেও নেন না। এমনকি ভালো কাজও দেখেন না। নিজেরাও বোঝেন না বলেই এমন অবহেলা। দক্ষ জনশক্তি দিয়ে মান নিশ্চিত করে কাজ করতে পারলে করেন নয়তো সব কাজ বন্ধ রাখেন।"
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন, এডিজি মহিউদ্দিন, জিএম আহমেদ মাসুম।
মন্ত্রী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছালে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ ও কর্ম ব্যবস্থাপক (ডাব্লু এম) মমতাজুল ইসলাম।
এ সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সেক্রেটারি শাহীন আকতার শাহীনসহ অন্যান্য নেতা, রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ক্যারেজ শপ, ওয়াগন শপ, মেশিন টুল সপ, সিএন্ডএইচ সপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ক্যারেজ শপে রেলওয়ে কোচ তৈরির ক্ষেত্রে জানালার ফিনিশিং ও ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে তিনি সংক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, "এইসবের মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং এগুলো চলবে না। এর চেয়ে বাসাবাড়ির কাজও অনেক ভালো। আপনাদের চোখ নাই, আর থাকলেও তদারকির অভাব। একারণেই এমন হচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না।"
পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার দিকে ডিএস কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক মতবিনিময় করেন এবং সর্বশেষে প্রধান ফটকের সামনে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, "এই কারখানা অত্যন্ত প্রাচীন এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে কারখানার উদপানক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় কাজের মানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসংগতি তৈরি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "অথচ আমাদের সক্ষমতা অনেক ভালো। কিন্তু সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ইচ্ছে ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব আছে। আমরা চাই এসব দুর্বলতা দূর করে কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করাসহ সার্বিক উন্নতি করা। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে চায় সরকার। আর সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই এই সফর।"
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরে জনবল সংকট দূর করা হবে। আবাসন সংকট নেই। তবে বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো অনেক পুরাতন হয়ে পড়ায় তা সংস্কার প্রয়োজন। আর রেলওয়ের ৯টি হাসপাতালই বেশ খারাপ অবস্থায় আছে। এগুলোর ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা পার্বতীপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু মন্তব্য করেছেন যে, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, পুনঃব্যবহার বৃদ্ধি এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্লাস্টিক দূষণ নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। এটি প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং, এই সমস্যার সমাধানে উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালার সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে যুক্ত করতে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সহায়তা করবে। সরকার নেতৃত্ব দেবে, তবে এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সহযোগিতা সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নতি, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর সমাধানের প্রসার এবং জনগোষ্ঠী ও বর্জ্যকর্মীদের অবস্থার উন্নতিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বর্জ্য ফেলার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নালা বন্ধ করে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পরিবারকে বর্জ্য আলাদা করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের সময় তা আলাদা রাখা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। এনপিএপি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্লাস্টিকসংক্রান্ত অভিন্ন জাতীয় তথ্যভিত্তি তৈরি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে ইউএনডিপি মত দেয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ