ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১২ হাজার টন কমলার খোসা ফেলা, ১৬ বছর পর ‘চোখ ছানাবড়া’ বিজ্ঞানীদের


১২ হাজার টন কমলার খোসা ফেলা, ১৬ বছর পর ‘চোখ ছানাবড়া’ বিজ্ঞানীদের

এক সময়ের অনুর্বর স্থানটি ছিল ঘাস ও পাথরে ভরা। সেখানে ১২ হাজার টন কমলার খোসা এবং কমলার পাল্প ফেলে রাখা হয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা। ১৬ বছর পর সেখানে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অভিভূত হন।

এটি মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার একটি জাতীয় উদ্যানের ঘটনা।

গবেষকেরা পরে আবিষ্কার করেন, যে তিন হেক্টর জমিতে কমলার খোসা ফেলা হয়েছিল, সেখানে গাছের বায়োমাস (একটি এলাকায় থাকা গাছপালার মোট ভর) ১৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এছাড়া, সেখানে মাটির গুণমান, গাছের বৈচিত্র্য এবং বনের ঘনত্ব, সবই পার্শ্ববর্তী জমির তুলনায় বেশি ছিল। কীভাবে এমনটি সম্ভব হয়েছিল?

কমলার খোসা থেকেই শুরু

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কোস্টারিকার উত্তর সীমান্তে ডেল অরো নামের একটি প্রতিষ্ঠান কমলার জুস তৈরির কারখানা স্থাপন করে।

পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেন ও উইনি হলভাক্স তখন কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাজ করছিলেন। তারা ডেল অরোকে একটি প্রস্তাব দেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

প্রতিষ্ঠানটি যদি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য কিছু বনভূমি দান করে, তাহলে জাতীয় উদ্যানে তাদের কমলার খোসা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে। সেগুলি ধীরে ধীরে পচে মাটির সাথে মিশে যাবে।

ডেল অরো প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ১৯৯৭ সালের চুক্তির পর প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কমলার খোসা ও পাল্প ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে অনুর্বর জমিতে ফেলা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই আইনি জটিলতা শুরু হয়।

ডেল অরোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান টিকোফ্রুট অভিযোগ করে, জাতীয় উদ্যানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে জায়গাটি ‘নষ্ট’ করা হয়েছে।

মামলাটি কোস্টারিকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত টিকোফ্রুটের পক্ষে রায় দেয়। এরপর প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত জায়গাটির কথা কেউ মনে রাখেনি।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

২০১৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি ট্রয়ের পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল জানজেনের সাথে গবেষণার সম্ভাব্য বিষয় নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পুরোনো কমলার খোসার স্থানটির কথা উঠে আসে।

ট্রয় সেখানে গিয়ে যা দেখলেন, তা তার কল্পনার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ ছিল।

জায়গাটি এতটাই ঘন গাছপালা ও লতায় ঢেকে গিয়েছিল যে রাস্তার পাশে প্রায় ৭ ফুট লম্বা উজ্জ্বল হলুদ সাইনবোর্ডটিও গাছের আড়ালে পড়ে গিয়েছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

পাশের জমির সঙ্গে তুলনা

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

গবেষকেরা এবার জানতে চাইলেন, কমলার খোসা কি সত্যিই এই পরিবর্তনের কারণ? তারা কমলার খোসা ফেলা জমি এবং রাস্তার অপর পাশে অবস্থিত একই ধরনের জমির মধ্যে তুলনা করেন।

গবেষকেরা দুই জায়গায় গাছের সংখ্যা, গাছের আকার ও প্রজাতি পরিমাপ করেন। মাটির নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল ছিল স্পষ্ট।

কমলার খোসা ফেলা জমির মাটি ছিল অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। সেখানে গাছের বায়োমাস বেশি, গাছের প্রজাতিও বেশি এবং বনের ওপরের সবুজ ছাউনিও ছিল ঘন।

অর্থাৎ যে বর্জ্য একসময় ছিল একেবারেই ফেলনা, সেটিই ধীরে ধীরে অনুর্বর জমিকে আবার সবুজ করে তুলেছিল।

আরও পড়ুন: লাইভ সম্প্রচারে প্রার্থনার সময় ক্রুশ পড়ে যাজক পাত্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারির মৃত্যু

প্রিন্সটনের গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয় ‘রেস্টোরেশন ইকোলজি’ সাময়িকীতে। গবেষণার অন্যতম লেখক টিমোথি ট্রয়ের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পের বর্জ্য ব্যবহার করে বন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই।

এই ঘটনা আরও একটি বিষয় প্রমাণ করে। খাদ্য তৈরির সময় যে অংশটুকু আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, প্রকৃতির কাছে সেটি কখনো কখনো মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

প্রিন্সটনের পরিবেশবিদ ডেভিড উইলকোভের ভাষায়, মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় পরিবেশগত সমস্যাও তৈরি করে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সেই সমস্যার কিছুটা সমাধানও করা সম্ভব।

সূত্র: প্রিন্সটন ডটএডু

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে সিটিবাইক পরিষেবা ৭ নতুন এলাকায় সম্প্রসারিত, ২৩৪টি স্টেশন যুক্ত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী মুকুল জামিল হৃদরোগে মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী মুকুল জামিল হৃদরোগে মারা গেছেন

অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী মুকুল জামিল আর আমাদের মাঝে নেই। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মারা যান।

মুকুল জামিলের অকাল মৃত্যুতে সংগীত ও অভিনয়ের জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনয় ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।

অভিনয়শিল্পী সংঘ মুকুল জামিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "অভিনয়শিল্পী সংঘের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিল ইন্তেকাল করেছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। উনার প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত।"

মুকুল জামিলকে স্মরণ করে মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "আমার প্রাণপ্রিয় ভাই মুকুল জামিল ভাই এভাবে হঠাৎ চলে যাবেন, এটা আমার জন্য প্রচণ্ড কষ্টের। দেখা হলেই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন, কপালে চুমু দিতেন। মুকুল ভাই ছিলেন একজন সংগীতশিল্পী। কিন্তু জীবনে প্রথমবার অভিনেতা হিসেবে আমার ‘সেলফি’ গানটিতে মজার ছলে তাকে মডেল হিসেবে নিয়েছিলাম। এরপর একে একে আমার অনেকগুলো গানে মুকুল ভাইকে অভিনেতা হিসেবে পেয়েছি।"

ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল মুকুল জামিলের। তার বোনের হাত ধরেই গানে আসার শুরু। জীবনের ৩০টির বেশি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছেন তিনি। একটি সলো অ্যালবামও রয়েছে, যার নাম ‘আমি তো এমনই’। তার বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মুকুল জামিলের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’। এছাড়া তার ‘চায়ের চুমুকে’ গানটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মুকুল জামিল কাজ করেছেন। তিনি ‘ওয়েডিং বেলস’ (২০১৯), ‘আমানুষ’ (২০২২) ও ‘ছাত্রী বউ’ (২০২৪)-এর মতো চলচ্চিত্রে যুক্ত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সঞ্চয়পত্রের টাকা পেতে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ে শুরু হচ্ছে এভিএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


সঞ্চয়পত্রের টাকা পেতে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ে শুরু হচ্ছে এভিএস

সরকার স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করেছে, যা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পেতে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সহযোগিতায় এভিএস কার্যকর হবে। গ্রাহক যখন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কিনবেন, তখন তাদের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির আওতায় এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে।

এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল, তবে এবার ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা যুক্ত হলো।

পূর্বে গ্রাহকের দেওয়া হিসাব নম্বর সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। যদি কোনো সংখ্যা ভুল হতো, তাহলে ইএফটি ফেরত আসত এবং তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপও বাড়ত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্যের হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও বিদ্যমান ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রথমে হিসাবটি সঠিক ও সচল কি না তা যাচাই করা হবে এবং পরে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এভিএস ব্যবহৃত হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অতিরিক্ত কাজ কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদে ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।

অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে এবং গ্রাহকের অর্থ দ্রুত ও সঠিক সময়ে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে ইউপি সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


চাঁদপুরে ইউপি সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আহাদ খাঁন জুয়েল (৩৫) এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় মো. নুরুজ্জামান সোহাগ (২৭) নামে এক যুবককে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মো. নুরুজ্জামান সোহাগ একই ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মো. নূরুল আমিন ভুইয়ার ছেলে।

অন্যদিকে, আহাদ খাঁন জুয়েল চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য এবং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। মো. নুরুজ্জামান সোহাগ গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সভাপতি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহাদ খাঁন জুয়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে এবং মো. নুরুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের মামলা রয়েছে। তারা আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তিতে বিপিপিএর অগ্রাধিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তিতে বিপিপিএর অগ্রাধিকার

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন, ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সংস্থাটি সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, মান ও টেকসইতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

সম্প্রতি বাসসকে এক সাক্ষাৎকারে বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রয়ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

কামরুজ্জামান আরও জানান, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা বিপিপিএর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

এছাড়া, মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর ক্রয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয়, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অফলাইনে দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিপিপিএ নির্বিচারে অফলাইন টেন্ডারের অনুমতি দিচ্ছে না। কোন পরিস্থিতিতে ক্রয়কারী সংস্থাগুলো অফলাইনে দরপত্র আয়োজনের অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

ই-জিপি সফটওয়্যারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বিপিপিএর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সাম্প্রতিক সংস্কার তুলে ধরে বিপিপিএর সিইও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কোনো ক্রয়কারী সংস্থার ডিবারমেন্ট বা দরপত্রদাতাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য একটি স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

তার মতে, নতুন বোর্ড সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ই-জিপি ভার্সন ২.০ চালু ও পুরোনো হার্ডওয়্যার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান ই-জিপি ডেটা সেন্টার আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া নিজস্ব জমিতে বিপিপিএর স্থায়ী প্রধান কার্যালয় নির্মাণ এবং সাসটেইনেবল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (এসপিপি) বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করতে এআই ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নাগরিকবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পিপিআর ২০২৫-এ বড় সংস্কার

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০২৫-এ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে বলে জানান কামরুজ্জামান।

এসবের মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের কার্যসম্পাদনমূলক ক্রয়ে ১০ শতাংশ মূল্যসীমা বাতিল, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার ও সফল ঠিকাদারদের প্রকৃত মালিকানার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।

এ ছাড়া পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু, সব সরকারি ক্রয়ে ক্রয়কৌশল প্রণয়ন বাধ্যতামূলক ও ভৌত সেবাকে পৃথক ক্রয় শ্রেণি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ও আলোচনার সুযোগ সম্প্রসারণ, তথ্য প্রযুক্তিসংক্রান্ত ক্রয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ ও রিভার্স অকশন নামে নতুন অনলাইন ক্রয়পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালন বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ সংরক্ষণের বিধানও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পৃথক প্রকিউরমেন্ট ইউনিট গঠন, অগ্রিম ক্রয়, বাজারের সঙ্গে আগাম সম্পৃক্ততা এবং কৌশলগত ক্রয় পরিকল্পনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কামরুজ্জামান বলেন, এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় কাঠামো আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আরও কাছাকাছি এসেছে।

তিনি জানান, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আরও সংশোধনী আনা হতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা, সততা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%