ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করাই রুহুল আমিন রুবেলের শখ


অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করাই রুহুল আমিন রুবেলের শখ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল অসহায় পরিবারের মেয়েদের নিজের সন্তানের মতো করে বিয়ে দেন। গত ২৪ বছরে তিনি নিজের উপার্জনের টাকায় ১১৩ জন মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। বিয়ের পোশাক, গয়না, উপহারসামগ্রী, সাজসজ্জা ও খাবারের সব খরচ তিনি নিজেই বহন করেন।

সর্বশেষ ৯ অক্টোবর নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফছার আলীর মেয়ে আফসানা মিমির (২০) বিয়ের আয়োজন করেন রুবেল। আফসানার বিয়ে নাটোর সদর উপজেলার সবুজ মণ্ডলের ছেলে কাউছার মণ্ডলের (২২) সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

আফসানার বাবা আফছার আলী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। তিনি আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি বিয়ের সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং গায়েহলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আফসানা জানান, অর্থাভাবে তার বাবা বিয়ের আয়োজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। রুহুল আমিন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার কল্পনার বাইরে ছিল। নববধূ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর কাউছারও রুহুল আমিনকে বিয়ের উকিল বাবা হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান।

বিয়ের দিন কনের বাড়িতে উৎসবের আমেজ ছিল। অতিথি ও বরযাত্রীদের আপ্যায়নে গরু, খাসি, মুরগি, ডিম ও পোলাওসহ নানা পদের খাবারের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজের পর বরযাত্রী নিয়ে কাউছার কনের বাড়িতে আসেন। রুহুল আমিন সোনার আংটি দিয়ে বরকে বরণ করেন এবং পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

নিজের উদ্যোগে আয়োজন করা প্রতিটি বিয়ের তারিখ ও স্থান লিখে রাখেন রুহুল আমিন। তিনি অনেক বিয়ের ছবি ও ভিডিওও সংরক্ষণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে এক মেয়ের বাবা, এই ব্যবসায়ী অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকে নিজের শখ হিসেবে নিয়েছেন।

এর আগে ২১ আগস্ট ১১২তম বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের এতিম তরুণী সুমাইয়া আক্তারের বিয়েতে সহযোগিতা করেন। তার মা জহুরা বেওয়া জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর মাঠে-ঘাটে কাজ করে মেয়েকে বড় করেছেন। মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও রুহুল আমিনের সহায়তায় সম্মানের সঙ্গে সেই দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ ছাড়া ২১ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতি গ্রামের জালাল মোল্লার মেয়ে রাবেয়া খাতুনের বিয়ের আয়োজন করেন তিনি। আট বছর আগে ক্যানসারে বাবাকে হারানো রাবেয়াও তার সহযোগিতায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে করতে পেরে কৃতজ্ঞতা জানান।

রুহুল আমিনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, রুহুল আমিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসও তার এই মানবিক উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

রুহুল আমিন বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াই তার শখ। এর বিনিময়ে পার্থিব জীবনে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা নেই। ১১৩ জন মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, এই মেয়েরা তারই সন্তান, আর তাদের স্বামীরা তার জামাই।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৭৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৭৩

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সাতটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৩ জন।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন, চট্টগ্রামে একজন, সিলেটে তিনজন, খুলনায় একজন এবং রংপুরে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দুই লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। এ নিয়ে মোট নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৪২১ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৬২ জন হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল আটকে ছাত্রদল নেতা বদরুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


মোটরসাইকেল আটকে ছাত্রদল নেতা বদরুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম নামে এক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাদেক মিয়া নামে আরও একজন। বর্তমানে আহত সাদেক মিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গুরাগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম ছিলেন রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর সন্তান। আহত সাদেক মিয়া লামার হাদারপার (ভৈরবী বস্তি) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরুল রাজনীতির পাশাপাশি বালু ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন। রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া। তিনি জানান, সেখানে তুহিন ও শাহিন নামে দুজন বদরুলকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন। হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সোনা মিয়া।

পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোনে না পেয়ে সোনা মিয়া নিজের আত্মীয়স্বজনকে খবর দেন। স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদেক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে সাদেক মুঠোফোনে আমার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে বাঁচানোর আকুতি জানান। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় গুরাগ্রামের শাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন মিলে তার ভাইকে হত্যা করে।

ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত টিভিএস মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, রোববার ফজরের নামাজের সময় বদরুল ও সাদেকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বদরুল নিহত হয়েছেন এবং সাদেক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির নাম বলেছেন। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক, অচেতন শিশুকে ফেলে পালাচ্ছিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


সাতক্ষীরায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক, অচেতন শিশুকে ফেলে পালাচ্ছিলেন

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রবিউল ইসলাম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পুলিশ আটক করেছে।

এ ঘটনা ঘটে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামে।

অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা এবং গুনাকরকাটি বাজারে ফার্নিচার মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা হামদা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলের পেছনে একটি চাতালে ধান শুকানোর কাজ করছিলেন। তখন তিনি লক্ষ্য করেন, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় বাইরে রেখে তাড়াহুড়ো করে দোকান বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। পরে তিনি দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং মাথায় পানি দিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন।

শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনার পর হামদা খাতুন তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে আটক করে রাখেন।

খবর পেয়ে আশাশুনি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনজির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করেন। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে একটি নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন ঐতিহাসিক এই সাফল্য অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন প্রদান করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বায়রার চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে আর কোনো বড় বাধা নেই। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে।

এদিকে, প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজড অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা অতিক্রম করেছে কেন্দ্রটি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন শুরু হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হবে। রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুরের পরবর্তী বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের পর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এই পর্যায়ে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং শেষ পর্যন্ত জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এজন্য অপারেটিং সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বায়রা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডসংশ্লিষ্ট সংস্থা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী এবং নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম শক্তিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে সংযোগের পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সৃষ্টি হবে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ার সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%