০২:৫৪ পি.এম
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আলোচনায় আসা নামটি হলো রাজু চৌধুরী (২০), যিনি তাজমিনের প্রেমিক হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং মাত্র ১৭ দিনের সম্পর্কের জেরে তাজমিন তার ঘর ছেড়ে চলে যায়। রাজুর আমন্ত্রণে কক্সবাজার ভ্রমণও করে সে।
তাজমিন নিখোঁজ থাকার চারদিন পর কক্সবাজারে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে সে পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় যায় এবং সেখান থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাওয়ার সময় সে মাকে জানায় যে বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমে যায়, যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
কক্সবাজারের কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন তার বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। তারা তখন তাদেরকে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হিসেবে মনে রাখে, কেবল কাস্টমার হিসেবে। পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে ছেলেটি।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ছাড়ে এবং রাতে হোটেল নূরজাহানে পৌঁছায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।
হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করে, কারণ পুলিশ জানতে চাইতে পারে। পরে সে জানায় যে, সঙ্গে আসা ছেলেটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এদিকে, ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন