১২:৩১ পি.এম
একজন সফল ব্যবসায়ী। হঠাৎ একদিন মাথায় আসে ভিন্নধর্মী একটি পরিকল্পনা, বিদেশি জাতের গরু ও মহিষ পালন করবেন। শুরুতে পরিকল্পনাটি ছিল শুধুমাত্র একটি স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে খুব বেশি সময় নেননি ভোলার চরফ্যাশনের উদ্যোক্তা মঞ্জুরুল আলম সায়েম।
চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে মেসার্স আপন অ্যাগ্রো নামে গড়ে তুলেছেন গরু ও মহিষের আধুনিক খামার। বিদেশি জাতের মহিষ আমদানি করে খামারেই তিনি লালন-পালন করছেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে বিদেশি জাতের প্রায় ৮০টি মহিষ। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৬০টি গরু।
একসময় মহিষ পালনের জন্য প্রয়োজন হতো বিস্তীর্ণ চর ও চারণভূমি। মাঠে কিংবা চরে ছেড়ে দিয়েই মহিষ পালনের প্রচলন ছিল বেশি। কিন্তু সেই চেনা ধারণাকে বদলে খামারভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতিতে মহিষ পালন করছেন মঞ্জুরুল আলম সায়েম।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
খামারের প্রতিটি পশুর জন্য রয়েছে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা। ভোর থেকে শুরু হয় কর্মীদের ব্যস্ততা। মহিষ ও গরুকে খাবার দেওয়া, পরিচর্যা করা, দুধ সংগ্রহসহ নানা কাজে সময় কাটায় শ্রমিকরা।
এই খামার শুধু উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ করেনি, তৈরি করেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও। বর্তমানে খামারে নিয়মিত কাজ করছেন ২২ জন। ফলে একদিকে যেমন লাভবান হচ্ছেন উদ্যোক্তা, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
মঞ্জুরুল আলম সায়েম বলেন, "আমার খামার থেকে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ দুধ উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় আড়াইশ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। খামারের পরিধি আরও বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুধ উৎপাদনও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছি।"
তিনি বলেন, "লক্ষ্য শুধু দুধ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে চরফ্যাশনসহ পুরো ভোলা জেলার মানুষের কাছে মহিষের দুধ ও মাংস পৌঁছে দিতে চাই। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে মহিষের মাংস খুব একটা সহজলভ্য নয়।"
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তাই উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় people's চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মহিষের মাংসের নতুন বাজার তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি খামারটি আরও সম্প্রসারণ করে বিপুল সংখ্যক মহিষ পালনের পরিকল্পনা করছি। বিশেষ করে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পেলে বড় পরিসরে মহিষের খামার গড়ে তুলতে চাই।
আরও পড়ুন
হাঁস নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর তুমুল মারামারি।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. লোকমান বলেন, "আমাদের প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল থেকে নিয়মিত তদারকি করা হয়। আমরা সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী তার খামারের মহিষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।"
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন