সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৪ পি.এম
এসিআই পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ নির্দিষ্ট ঠিকানা ও সময়ে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
পদের নাম: ফিল্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (তবে এইচএসসি পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থাকতে হবে)।
অন্যান্য যোগ্যতা: ইংরেজি ও বাংলায় ভালো যোগাযোগ দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর
কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: আকর্ষণীয় ও সামগ্রিক বেতন কাঠামো
অন্যান্য সুবিধা: টিএ/ডিএ, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রণোদনা, উৎসব বোনাস, লভ্যাংশ ও ছুটিকালীন ভ্রমণ সহায়তা, সেরা পারফর্মারদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ, পরিবারের জন্য চিকিৎসা সুবিধা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
আবেদনের শেষ সময়: ২ অক্টোবর ২০২৬
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ শিশুর পরবর্তী জীবনে অটিজম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মগত এসব সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের অটিজমের ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি সাতগুণেরও বেশি হতে পারে।
গবেষণায় সিফিলিস, রুবেলা, টক্সোপ্লাসমোসিস, সাইটোমেগোভাইরাস (সিএমভি) ও হার্পিসভাইরাসের মতো জন্মগত সংক্রমণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব সংক্রমণ সম্মিলিতভাবে টর্চ সংক্রমণ নামে পরিচিত।
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ১৯৮৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩৭ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের মধ্যে ৯৭৫ জনের জন্মগত টর্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। গবেষকেরা প্রায় তিন দশক ধরে অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, জন্মগত টর্চ সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অটিজম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষকদের ধারণা, গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু জীবাণু ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেখা দিতে পারে।
শিশুদের শিক্ষাজীবনেও এসব সংক্রমণের প্রভাবের ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণায় সংক্রমণে আক্রান্ত এমন কিছু শিশুর বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে, যাদের অটিজম বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত হয়নি।
গবেষকদের মতে, জন্মগত টর্চ সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাইটোমেগালোভাইরাস নবজাতকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে এই সংক্রমণের প্রকোপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন এবং কিছু স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশে এর বোঝা বেশি হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাদান, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা। রুবেলার মতো টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের আগে টিকাদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব টিকা গর্ভাবস্থায় দেওয়া যায় না তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া জন্মগত সংক্রমণ শনাক্ত করার কার্যকর পদ্ধতি উন্নত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নবজাতকদের পরীক্ষা করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, কিছু সংক্রমণে আক্রান্ত মা বা নবজাতকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ফলাফল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালেও জন্মগত সংক্রমণে আক্রান্ত সব শিশুর অটিজম বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ব্যক্তিভেদে ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইউরো নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে আজ ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটারের আধুনিক এই টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়।
কক্সবাজারে ভ্রমণরত পর্যটকদের মাঝে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "নতুন হিসেবে এটি খারাপ নয়, বরং বেশ ভালো লাগছে। আগের তুলনায় এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশি। আমাদের হয়রানিও কম হয়েছে। খুব সহজেই লাগেজগুলো পেয়ে গেছি। কক্সবাজারের মতো একটি জায়গায় আসলে আমাদের এমন একটি পরিবেশেরই প্রয়োজন ছিল। যখন ফ্রেশ রুমে যাচ্ছিলাম কিংবা বসছিলাম, তখন সত্যিই দারুণ লাগছিল। এটি নিঃসন্দেহে একটি দারুণ আয়োজন।"
দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ এই টার্মিনালে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন সম্পর্কে ইউএস-বাংলার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ মন্তব্য করেন, "আমাদের প্রস্থান হলটি বেশ প্রশস্ত, আগমন হলটিও প্রশস্ত। পাশাপাশি, বোর্ডিং লাউঞ্জটিও অনেক বড় ও সুন্দর। সব মিলিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যাত্রীদের জন্য প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই এখানে রাখা হয়েছে।"
নভোএয়ারের স্টেশন ম্যানেজার সারওয়ার উল কাদের জানান, "এখানে ব্যাগেজ বেল্টের সুবিধা রয়েছে। পুরো এলাকাটিও অনেক বড় ও প্রশস্ত। আগে যেভাবে যাত্রীদের গাদাগাদি করে থাকতে হতো, সেই পরিস্থিতি থেকে আমরা এখন পরিত্রাণ পেয়েছি।"
বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী হয়রানি রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে দেশের চতুর্থ এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, "এখানে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিভাগে বিমানবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগও শক্তিশালীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের এপিবিএন সদস্যরাও এখানে রয়েছেন। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬টি বিভাগ বা সংস্থা এখানে একযোগে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।"
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরে এই টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা থাকলেও আজ থেকেই এখান থেকে সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। তবে অক্টোবর মাস থেকে পর্যটন নগরীর এই রানওয়েতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা করার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকায় ভবনটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ বছর ধরে ভাড়া করা ভবনের ছোট দুটি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির একাংশে গরু পালন করা হচ্ছে। নিচতলার একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে। সেখানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ও আশপাশে মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকার চিত্রও দেখা গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে স্থাপনাটি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
মঠবাড়িয়া পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদ রোডে উপজেলা পোস্ট অফিসের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর ২০২২ সাল থেকে সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে গোয়ালি পাড়া রোডে ভাড়া নেওয়া ছোট দুটি কক্ষে কোনোমতে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৮ জন কর্মী রয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রকল্পটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ব্যস্ততা’ আছে জানিয়ে কথা বলেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য জানতে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরুর সময়, নির্ধারিত মেয়াদ, মোট ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরু ও শেষ করার বিষয়ে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন ছয়টি প্রশ্ন করা হয়। তবে ওই বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।
পরদিন (২১ সেপ্টেম্বর) ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ তৈয়ব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রকল্প পরিচালক নিজেই ফোন করে তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি ঢাকায় চা খাওয়ার আমন্ত্রণও জানান।
তবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি, ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে ডাক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জালাল হোসেন বলেন, ভবনের গ্রেড বিম ও কলামের ঢালাই, ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
কী কারণে বন্ধ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টের কিছু জটিলতার কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা পোস্টমাস্টার উত্তম কুমার রায় (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা ছোট দুটি কক্ষে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অফিস সরঞ্জাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে সেবার মান আরও উন্নত ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশও ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নতুন ভবন না থাকায় স্পিড পোস্টের মালামাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, পোস্ট অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে ভবনটি সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আদালতের একটি তারিখ মানে অনেকের জীবনে আরেকটি অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা কখনো জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার, কখনো পাওনা টাকা আদায়ের, কখনো অপরাধের বিচার পাওয়ার, আবার কখনো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার। আদালতের নথিতে এসব কেবল মামলা নম্বর ও পক্ষের নাম কিন্তু প্রতিটি মামলার পেছনে থাকে মানুষের জীবনের একটি করে গল্প।
বাংলাদেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা যখন ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়, তখন এটিকে শুধু বিচার বিভাগের ওপর জমে থাকা কাজের হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সব স্তরের আদালতে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা অধস্তন আদালতেই।
এত বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে। তবে মামলার সংখ্যা দিয়েই পুরো বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মাপা যায় না। মামলা বাড়ার পেছনে যেমন নতুন বিরোধের সৃষ্টি আছে, তেমনি আছে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জনবল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, সাক্ষ্য ও নথি ব্যবস্থাপনার সমস্যা, মুলতবি এবং আপিলের মতো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘মামলা এত বেশি কেন’ নয়। বরং আরও জরুরি প্রশ্ন হলো, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে এত সময় লাগে কেন এবং সেই অপেক্ষার মূল্য শেষ পর্যন্ত কে দেন?
৩১ মার্চ ২০২৬-এর হিসাবটি দেখলে সমস্যার ব্যাপ্তিও স্পষ্ট হয়। আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৭১৩টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি এবং অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন। অর্থাৎ মোট বিচারাধীন মামলার প্রায় ৮৮ শতাংশই অধস্তন আদালতে। অধস্তন আদালতের এই চাপের মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি।
এখানে বিচারকের সংখ্যা ও আদালতের সক্ষমতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ জন নতুন সিভিল জজ নিয়োগসহ আদালতের সহায়ক জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। নতুন আদালত ও বিচারকের পদ সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেই মামলার জট কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে বিচারকের পাশাপাশি যুক্ত থাকে আদালতের প্রশাসন, সমন জারি, সাক্ষীর উপস্থিতি, তদন্ত, নথি প্রস্তুত, আইনজীবী ও পক্ষগুলোর প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। এসব জায়গার কোনো একটিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো মামলার ওপর। তাই মামলার জটকে শুধু বিচারকের স্বল্পতার সমস্যা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির একটি অংশই দেখা হবে।
বিচারের ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব সংবিধানও স্বীকার করেছে। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্বকে শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।
ফৌজদারি কার্যবিধিতেও নির্দিষ্ট মামলার বিচার শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। ৩৩৯সি ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার গ্রহণের পর ১৮০ দিনের মধ্যে এবং সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ বা সহকারী সেশনস জজের আদালতে ৩৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে, নির্দিষ্ট শর্তে জামিনের সুযোগের কথাও একই ধারায় বলা হয়েছে। তবে আইনে সময়সীমা নির্ধারিত থাকা আর বাস্তবে প্রতিটি মামলা সেই সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার প্রকৃতি, সাক্ষী, আসামির অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতি বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
মামলার জট কমানোর ক্ষেত্রে তাই আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়ছে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯এ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, উপযুক্ত বিরোধ যেন সব ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে না হয়।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন এসেছে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০২৫ সনের ৩৫ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এ ২১খ, ২১গ, ২১ঘ ও ২১ঙ ধারা সংযোজন করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের বিরোধে আদালতে মামলা করার আগে মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় ১২টি জেলায় চালুর পর ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ তা আরও জেলায় সম্প্রসারিত হয়। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে।
মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যকর হলে কিছু বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তির সুযোগ পাবে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ, সহজলভ্য ও কার্যকর হয় তার ওপর। বিশেষ করে আর্থিক বা সামাজিকভাবে দুর্বল কোনো পক্ষ যেন মধ্যস্থতার নামে আপস করতে বাধ্য না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্য বিচারপ্রাপ্তির পথ সংকুচিত করা নয়; বরং উপযুক্ত ক্ষেত্রে দ্রুত ও কম খরচে বিরোধের সমাধানের সুযোগ তৈরি করা।
প্রযুক্তিও এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন জারি, মামলার নথি ব্যবস্থাপনা, মামলার তারিখ ও কার্যক্রম সম্পর্কে পক্ষগুলোকে দ্রুত জানানো এবং আদালতের প্রশাসনিক কাজ ডিজিটাল করা গেলে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রযুক্তি কোনো জাদুকাঠি নয়। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই মামলার জট কমে যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট মামলা ব্যবস্থাপনা।
কোন মামলা কত পুরোনো, কোন মামলায় কতবার সময় নেওয়া হয়েছে, কোন মামলায় সাক্ষ্য শেষ হয়েছে, কোন মামলায় রায় অপেক্ষমাণ, এসব তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা যেতে পারে। পুরোনো মামলাগুলোর জন্য আলাদা নজরদারি এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের একটি উদাহরণ দেখা গেছে হাইকোর্ট বিভাগে। ১০ জুলাই ২০২৫ প্রধান বিচারপতি ২০০০ সালের আগে দায়ের করা ১০ হাজার ৩৮৫টি পুরোনো মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে মামলার জট কমানোর আলোচনা করতে গিয়ে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না। দ্রুত বিচার মানে তাড়াহুড়ো করে বিচার নয়। একজন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই, ন্যায্য শুনানি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা অক্ষুণ্ন রেখেই বিচারকে সময়োপযোগী করতে হবে। অন্যদিকে বছরের পর বছর একটি মামলাকে ঝুলিয়ে রাখাও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিচারব্যবস্থার জন্য আসল চ্যালেঞ্জ তাই দ্রুততা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।
মামলা কমানোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মামলার সংখ্যা কমানো নিজে কোনো চূড়ান্ত সাফল্য নয়। কোনো নাগরিকের বৈধ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত অপ্রয়োজনীয় মামলা, অযথা দীর্ঘসূত্রতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্ব কমানো; আদালতে যাওয়ার অধিকার সীমিত করা নয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কার্যকর আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা বিচারপ্রাপ্তির সমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪৬ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলা তাই শুধু আদালতের ভেতরের একটি সংকট নয়। এটি রাষ্ট্রের বিচারপ্রাপ্তির সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা। নতুন বিচারক ও আদালত যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন দক্ষ আদালত প্রশাসন, কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার প্রসার। একই সঙ্গে প্রতিটি সংস্কারের ফলও পরিমাপ করতে হবে। কত মামলা কমল, কত সময় সাশ্রয় হলো, বিচারপ্রার্থীর খরচ কতটা কমল এবং কত দ্রুত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া গেল, এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কোনো সংস্কারের সাফল্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না।
শেষ পর্যন্ত আদালতের নথিতে একটি মামলা একটি সংখ্যা হতে পারে, কিন্তু বিচারপ্রার্থীর কাছে সেটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের শেষ কখন হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে গেলে বিচার পাওয়ার অধিকার কাগজে থাকলেও তার বাস্তব মূল্য কমে যায়। তাই বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু মামলার সংখ্যা কমানো হওয়া উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যেতে পারবেন এবং অযথা দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই আইনসম্মত ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ৪৬ লাখ মামলার পরিসংখ্যান আমাদের সেই প্রশ্নটিই সামনে এনে দেয়, আদালতের দরজা খোলা আছে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করা একজন মানুষ ন্যায়বিচারের কাছে পৌঁছাতে আর কতটা পথ পাড়ি দেবেন?
লেখা: সাবেক সভাপতি, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি
শিক্ষানবিশ আইনজীবী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ