প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে একটি সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, যার নাম সোলজারফিশ (Soldierfish)। মাছটি আলাদা আকর্ষণীয় লালচে বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে আলীপুর মৎস্য বন্দরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস জানিয়েছেন, এটি তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। মাঝি ইদ্রিস জানান, মাছটি জালে উঠে আসায় তীরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, "দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।"
মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম জানান, মাছটির সৌন্দর্য এতটাই প্রচুর যে, তাই বরফে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, "আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।"
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত 'সুস্থ সাগর' প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, সোলজারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় এ মাছ বসবাস করে। দিনে আশ্রয়ে থাকলেও রাতের বেলায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের উপকূলে এটি খুব ঘন ঘন ধরা না পড়লেও বৈশ্বিকভাবে এ মাছ বিরল নয়। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি সামুদ্রিক প্রজাতি। তিনি বলেন, "আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে এটি খুব কম ধরা পড়ে। তাই স্থানীয়ভাবে এটি মানুষের কাছে অপরিচিত। এ ধরনের মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। জেলেদের এমন ভিন্নধর্মী বা অচেনা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন