প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত (মালয় ভাষী) দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)’।
দলটির প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি সম্প্রতি এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, "যতদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে।"
১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য লড়াই করে আসছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের যোদ্ধারা। ২০০৪ সালে নতুন করে লড়াই শুরু হলেও মাঝে এটি থেমে গিয়েছিল।
মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ২০১৩ সাল থেকে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থমকে গেছে, বিশেষ করে গত জুলাইয়ে ব্যাংকক সরকার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে। ওই সময় মুসলিম অঞ্চলে পাঁচ থাই নাগরিক নিহত হন, যা দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
নিকামাতুল্লাহ কুয়ালামপুরের একটি হোটেলে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি।"
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আগে মালয়-মুসলিম পাতানি সুলতানাতের শাসন ছিল। তবে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে, তখন থাইল্যান্ডের নাম ছিল সিয়াম।
২০০৪ সাল থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে স্থানীয় যোদ্ধা, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তবে নিকামাতুল্লাহ এর পেছনে তার দলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি আবার প্রত্যাখ্যানও করেননি।
নিকামাতুল্লাহ বলেন, তারা দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করে সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চান। তিনি জানান, এরপর সেখানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ১০ বছর পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
নিকামাতুল্লাহ আরও বলেন, "আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে (মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ) সরকার চালাতে দেওয়া উচিত। এটি শরিয়াহ পুলিশ ও আদালত দিয়ে চলবে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন