প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের কাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইকন বাবার দাফনের পর রাতে এটিএম বুথে ডিউটি দেন এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন, যা অনেকের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। তবে তার জীবন সংগ্রামের সম্পর্কে ভাইরাল হওয়ার পর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে এবং তার মামার সাথে কথা বলার মাধ্যমে জানা গেছে, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা তার সহকর্মীরা কখনোই তাকে পরীক্ষার আগের রাতে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরং তার নিজের ইচ্ছায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই কেনার সামর্থ্য তার ছিল না। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রস্তুত করেছেন।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটা এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয় বহন করতেন। এর মধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।
তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও এই তরুণ ভেঙে পড়েনি। স্বপ্ন দেখছে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের, তাই সে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকে ইকনের স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়া। অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দুর্ভোগও তার স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।
স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা উল্লেখ করেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন