প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সব সময়ই ‘সফলতাকে উৎযাপন’ করার কথা শোনা যায় বা পত্রিকায় লেখা দেখা যায়। তবে কখনো কি নিজের ব্যর্থতাকে উদযাপন করার কথা ভাবা হয়েছে? আজ ১৩ অক্টোবর ব্যর্থতা উদযাপনের দিন ‘Day for Failure’। আজকের দিনটি ব্যর্থতার মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্দীপনা খুঁজে পাওয়ার জন্য নির্ধারিত।
ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন Aalto Entrepreneurship Society (Aaltoes) ১৩ অক্টোবর ব্যর্থতা দিবসের সূচনা করে। উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের মধ্যে ব্যর্থতা নিয়ে ভয় এবং সামাজিক সংকোচ কমানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটি পালিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দিনটির প্রচারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং International Day for Failure নামটি ব্যবহার করেন।
বলা হয়ে থাকে ‘বীরভোগ্যা এ বসুধা’ অর্থাৎ পৃথিবী কেবল জয়ীদের জন্য। আমাদের সমাজ কেবল জয়ীদের গল্প শুনতে চায়। জয়ীদের যুদ্ধ জয়ের কাহিনী ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়, কিন্তু ব্যর্থদের ইতিহাস হারিয়ে যায়। প্রতিটি ব্যর্থতার পেছনে যে এক পাহাড় সমান প্রচেষ্টা থাকে, তা সমাজে স্বীকৃতি পায় না এবং প্রচারেও আসে না। আমাদের হাজারো প্রচেষ্টার মাঝে কিছু ছোট ছোট ভুল আমাদেরকে নিজেদের যুদ্ধেই হারিয়ে দিয়ে ব্যর্থতার মুকুট পরিয়ে দেয়। আজ সেই ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করার দিন। নিজের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন আজ।
একজন মানুষের ছাত্রজীবন শুরু হয় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা থেকে, এরপর এসএসসি, এইচএসসি, ভর্তি যুদ্ধ কিংবা চাকরির লড়াই—প্রতিটি ধাপেই ব্যর্থতা আসতে পারে। আমাদের উচিত ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ পরিণতি হিসেবে না দেখে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
আপনি হয়তো ভর্তি যুদ্ধে হেরে গিয়ে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাননি। কিন্তু সেই ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে গিয়ে যদি নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তবে তার প্রভাব আপনার পরবর্তী জীবনে, এমনকি ক্যারিয়ারেও পড়তে পারে। একটি ব্যর্থতার হতাশা সামলাতে না পেরে আপনি ডেকে আনতে পারেন আরেকটি ব্যর্থতা।
ব্যর্থতা এভাবেই কখনো কখনো একটি চক্র তৈরি করে। ধরুন, এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে না পারার হতাশা আপনাকে এমনভাবে গ্রাস করল যে আপনি এইচএসসিতেও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলেন না। ফলে আগের ব্যর্থতার প্রভাবেই জীবনে যুক্ত হলো আরেকটি ব্যর্থতা। এভাবেই একটি ব্যর্থতা থেকে একের পর এক ব্যর্থতা জন্ম নিতে পারে, যদি না আমরা সময়মতো সেই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।
কেবল ছাত্রজীবনেই নয়, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সাংসারিক জীবন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষকে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে ব্যর্থ হওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়। বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত জীবনের মূল লক্ষ্য।
আর তাই আজকের দিনটি ব্যর্থতার স্মৃতি মনে করে কষ্ট পাওয়ার দিন নয়; বরং সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে আবার সফলতার পথে ফেরা যায়, তার প্রেরণা খুঁজে নেওয়ার দিন। অতীতের ভুলগুলোকে নিজের দুর্বলতা হিসেবে আঁকড়ে না ধরে, সেগুলোকে ভবিষ্যতের পথচলার পাথেয় করে নেওয়ার দিন আজ।
দিনটি উদ্যাপনের জন্য আপনি অনেক কিছুই করতে পারেন। ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নিজের ভুলগুলো লিখে রাখতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা, কিংবা একান্তে বসে ভেবে দেখতে পারেন—কোথায় ভুল ছিল, কী করলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর প্রস্তুতিও নিতে পারেন।
ব্যর্থতার জন্য নিজেকে দোষারোপ করে থেমে থাকা নয়, বরং ব্যর্থতাকে স্বীকার করে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়াই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।
আজ ব্যর্থতার জন্য দুঃখ নয়, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাগ্রহণের উদযাপন হোক।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
রসায়ন বিভাগ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন