প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র আজমল হোসেনের হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের পিতা কুতুবউদ্দিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
আজমল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার কুতুবউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মেসের ছাত্রদের বরাত দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল (খাজা হল) সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী বসবাস করেন। আজমল হোসেনও সেখানে একটি রুমে থাকতেন।
শুক্রবার রাতে অন্য একজনের ভাত না দিয়ে নিজের ভাত খেয়ে ফেলেন আজমল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগতরা আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। তবে এসব আঘাত কিভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারেনি।
নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনি জানান, ছেলের রুমমেটরা ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলেছিল। টাকা দিলে সমস্যা মিটে যাবে বলেও জানানো হয়। পরে ছেলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাতে পাশের ভবনের ছাদে একজনকে (আজমল) মারধর করতে দেখেন। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, আজমলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
খুবির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে একটি ভাড়া বাড়িতে ঘটেছে। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিছু শিক্ষার্থী বসবাস করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন