প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, এবং দালাল চক্রের প্রতারণা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এই নোটিশটি দেন, যা সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ছিল।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তা—এই ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, "প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য ওনাকে স্টাডি করতে হয়েছে, এক প্রকার রিসার্চ করতে হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।"
মন্ত্রী বলেন, "যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ করে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা—এই বিষয়টি আমাদের একটা বড় অগ্রাধিকার।"
সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে কর্মীর চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই অনুযায়ী ‘ডিমান্ড ম্যাপিং’ করে প্রয়োজনীয় জনশক্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নোটিশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, "প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে। কিন্তু তারা নানা হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।"
তিনি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সামান্য অসঙ্গতির কারণে পাসপোর্ট আটকে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন, যা প্রবাসীদের ইকামা নবায়ন ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে দূতাবাসে বিশেষ ই-পাসপোর্ট সেল গঠন এবং আগের এমআরপি পাসপোর্টের ধারাবাহিকতা রেখে নবায়নের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়া সৌদি আরবে প্রবাসীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে দূতাবাস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি আইনি সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম ও ‘ফিট-আনফিট’ বাণিজ্য বন্ধ, বিএমইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশ যেতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবিও জানান মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
তিনি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস থেকে সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার দাবিও জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন