প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে, আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, দণ্ডিত পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার মধ্যে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
যারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অধীনে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর মধ্যে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এসব সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তবে এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কৌঁসুলি বলেন, "আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।"
আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন