প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রধান।
শনিবার (৪ জুলাই) এফডিসিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেট শীর্ষক এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ উল্লেখ করেন, স্বৈরাচার আমলে কোনো বড় বিজনেস হাউজ সরকারকে সন্তুষ্ট না করে ব্যবসা করতে পারত না। ব্যবসা-বাণিজ্যে অযথা অনিয়ম এবং দুর্নীতিসহ দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পেত। পালিয়ে যাওয়া সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প, যেমন পদ্মা রেলসেতু, কর্ণফুলি টানেল, পায়রা বন্দর ও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছিল। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি।
বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প গ্রহণে রক্ষণশীলতা দেখা যাচ্ছে বলে অধ্যাপক আবু আহমেদ মন্তব্য করেন, মানব উন্নয়নকেন্দ্রীক প্রকল্পকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে। এই সফরের ফলে উন্নয়ন সহায়তা, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
তিনি বড় বাজেটকে দোষের কিছু মনে করেন না এবং বলেন, নির্বাচিত সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় বাজেট দিতেই পারে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং এই সরকারকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দিতে হবে। অতীতে টানেলের শেষে কোনো আলো খুঁজে পাওয়া যেত না, এখন আমরা আশাবাদী। হতাশা কাটিয়ে টানেলের শেষে আলো দেখা যাচ্ছে।
‘দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি। ভারতের মতো অন্যান্য দেশগুলোতে কর্পোরেট করের হার বাংলাদেশের তুলনায় কম এবং আবু আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি করের হারকে অন্তত ওই দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে না পারি, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী শাসনামলে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে লুণ্ঠনের অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছিল। অতিমূল্যায়িত এসব মেগা প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয়ই ছিল ভুয়া। তিনি বলেন, অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের যেগুলো থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সেগুলোকে রেশনালাইজড করে অপচয় বন্ধ করা উচিত।
বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সরকারকে মেগা প্রকল্প গ্রহণের রক্ষণশীলতা থেকে বেরিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জরুরি।’ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো গতি আসেনি, গত ২ বছরে ৫ শতাধিক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং দেড় লাখের বেশি শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ার অভিঘাত পড়ছে অর্থনীতিতে। বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন সক্ষমতার অভাবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস এবং বিদ্যুৎ না পাওয়া গেলে ঋণ সহায়তা দিয়েও কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে ডি—রেগুলেশন বাস্তবায়ন না করতে পারলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে না। অভ্যন্তরীণ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না করলে দেশ ঋণের জালে আটকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে শুধু বিশাল বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য অর্থের যোগান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।’ তিনি এও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকার ঘোষিত এবারের বাজেট একটি সাহসী ও ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ।’
‘সীমাহীন চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এবারের বাজেট জনবান্ধব। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে জোর দেয়া হয়েছে। এতে করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সহ্যকারী উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর আহরণ করতে হবে,’ যোগ করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
‘এবারের বাজেট বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক আবুল কাশেম এবং সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন