প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের মাংসের ওজন এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ১৯০ গ্রাম বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কমিটি মাংসের ওজন মেলানোর সময় ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম ব্রয়লার মুরগির মাংস পেয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যগণ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার শাহাদত হোসেন চটেছেন।
গত ৫ জুলাই গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য বরাদ্দের মাংসের ওজন করেন। ওইদিন মাংসের ওজন মেলানোর সময় এক টুকরো মাংসের ওজন ছিল চল্লিশ গ্রাম, আর পাঁচ টুকরো মাংসের মোট ওজন ছিল ২৫ থেকে ৩৫ গ্রাম। অথচ প্রত্যেক রোগীকে দুপুরের খাবারে ১৯০ গ্রাম মাংস সরবরাহ করার কথা।
সময় সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানাকে সভাপতি করে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম এবং রংপুর বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মেশকাতুল আবেদকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সোমবার (১৩ জুলাই) হাসপাতালে সরেজমিন তদন্ত করেন। ওই সময় হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের জন্য বরাদ্দের মাংসের ওজন ছিল ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম।
তদন্তকালে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার শাহাদত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, সেটা নিয়ে নিউজ না করে হাসপাতালের রান্নাঘরে কেন আসছেন। এতো ছোট ব্যাপারে নিউজ করতে হবে কেন?'
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের জানান, 'খাদ্য সরবরাহের অনিয়ম নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। রোগী, চিকিৎসক, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে তারা কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেয়ার পর তারা ব্যবস্থা নেবেন।' হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের ওজন মনিটরিংয়ে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সেখানেও কোনো উত্তর দিতে চাননি।
এদিকে, হাসপাতালের চত্বরে মানববন্ধন করে সচেতন নাগরিকরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানান। তারা রোগীদের বরাদ্দের খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও সম্প্রতি হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি; এই সাত উপজেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের ভরসা জেলা সদরের এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর জনবল, চিকিৎসক, সেবিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে ভুগছে। হাসপাতালের পাশে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও বাড়ির প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ভবনটি সচল করা যাচ্ছে না। এ কারণে সাধারণ মানুষকে নানা দুর্ভোগের মধ্যে এখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন