প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে সর্দি ও কাশির মতো মৌসুমি রোগের বিস্তারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে একটি সহজ অভ্যাস, যেমন নিয়মিত হাত ধোয়া, জীবাণুর সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘকাল ধরে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণুর সংস্পর্শ কমানোর জন্য নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
মৌসুমি রোগ কেন ছড়ায়?
যখন কেউ অসুস্থ অবস্থায় হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন তার শরীর থেকে জীবাণু আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের কি-বোর্ড, ডেস্ক এবং দৈনন্দিন ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস।
কাশি বা হাঁচির সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢাকার পর যদি সেই হাত ধোয়া না হয় এবং অন্য কোথাও স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেখান থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। পরবর্তীতে, সুস্থ ব্যক্তি যদি জীবাণুযুক্ত সেই জায়গায় স্পর্শ করে, তাহলে তার হাতের মাধ্যমে নাক-মুখে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
হাত ধোয়া কীভাবে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে?
মৌসুমি রোগের জন্য দায়ী কিছু ভাইরাস বিভিন্ন পৃষ্ঠে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে বারবার স্পর্শ করা জিনিসের মাধ্যমে এগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত হাত ধোয়ার মাধ্যমে হাত থেকে জীবাণু দূর করা সম্ভব। এতে জীবাণু মুখমণ্ডলে পৌঁছানো বা অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস অন্যদের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাত ধোয়ার সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দিনে অন্তত পাঁচবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে বলা হয়। দুই বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। যারা নিয়মিত এটি অনুসরণ করেছেন, তাদের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের হার ৪৫ শতাংশ কম ছিল।
তবে সংক্রমণের প্রতিরোধের জন্য হাত ধোয়া একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত হাত ধুলে যে কেউ অসুস্থ হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কীভাবে হাত ধুতে হবে?
কার্যকরভাবে হাত ধোয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি—
* পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে নিন;
* সাবান দিয়ে ভালোভাবে ফেনা তৈরি করুন;
* অন্তত ২০ সেকেন্ড দুই হাত ঘষুন। আঙ্গুলের ফাঁক, কবজির চারপাশ ও নখের নিচের অংশও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন;
* পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন;
* এরপর হাত শুকিয়ে নিন।
কখন হাত ধোয়া উচিত?
* খাবার খাওয়ার আগে ও পরে;
* শৌচাগার থেকে বের হয়ে;
* কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর;
* কাঁচা সবজি, মাছ-মাংস ধরার পর;
* হাঁচি কাশি দেওয়ার পর।
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে জীবাণুর সংক্রমণ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ যখন কাশি ছড়ায়, তখন এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সূত্র: সামা টিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন