প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পদ ছাড়ার পরেও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আলোচনায় রয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট নিয়ে তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসে শেয়ার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের কেলেঙ্কারির শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক লুটপাটের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কয়েকবার উঠলেও কখনোই প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউর এক তদন্ত প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির ফিরিস্তি উঠে এসেছে।
২০১৭ সালে সরকারের মদদে ইসলামী ব্যাংকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপ নিয়ে নেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক ধারা ভেঙে গ্রুপটি ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। তখন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামি ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্ব পান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পরবর্তীতে তাকে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল ছিলেন।
বিএফআইইউর তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, একাধিক ভুঁইফোর কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার দখল করে এস আলম গ্রুপ। সময় সংবাদের হাতে আসা ৪২ পাতার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিভাবে এসব কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে শেয়ার পুনরায় কেনা হয়েছে জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিনের কথিত জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে ১০২ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করে, যা দিয়ে পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য ২৪টি কথিত কোম্পানির তথ্যও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ব্যাংকের বোর্ডে বসে লাখ লাখ কোটি টাকা লোন দিয়ে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। ফলে দেশের বৃহত্তম ব্যাংকটি এক পর্যায়ে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়ে।
৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর, হাইকোর্টের নির্দেশে, বিএফআইইউ ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয়। রিপোর্টটি চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে প্রতিবেদন দেয় তারা, যা লন্ডন ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্যা লয়েড অনুমোদন করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক বাধার কারণে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২১ জনের বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালে মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামি ব্যাংক। তাদের অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ১২ নম্বরে রয়েছেন। পরে আদালত অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেন।
ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম বলছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে যদি তিনি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সেই অপরাধের জন্য কোথাও কোনো আইনগত বাধা নেই গ্রেফতার করে আইন অনুসরণ করার।
ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার সম্পর্কিত মামলাটি হাইকোর্টে এখনও চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন