প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক জান্তার দ্বারা পরিচালিত একটি ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় কিয়াকতাউ শহরের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান দুটি বোমা ফেলে।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, বাজার এবং সংলগ্ন একটি সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে এবং ৫৮ জনের বেশি আহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং জানিয়েছেন, হামলার শিকার বাজারটি ওই অঞ্চলের মূল অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল। এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে একটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, যানবাহন ধ্বংস হচ্ছে এবং সেতুর অংশ ভেঙে পড়ছে।
জান্তা সরকার বরাবরের মতোই এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা পূর্বে বেসামরিক এলাকা টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা কেবল 'সন্ত্রাসবাদী' বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বৈধ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
এদিকে, রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধে জান্তা সেখানে অবরোধ আরোপ করায় চরম খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে শুধুমাত্র রাখাইনেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া, সংঘাতের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতায় মিয়ানমারে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন