প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের মাধ্যমে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বিরোধী দলের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, এই মিশনের কাঠামো সম্পর্কে আগেই পার্লামেন্টকে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলার কারণে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইনের ইরানের পাল্টা হামলার সময় সেখানে ইতালীয় বিমান বাহিনী প্রায় ৪০০ সদস্য মোতায়েন করেছে। এ বাহিনীর সঙ্গে চারটি ‘ইউরোফাইটার’ যুদ্ধবিমানও যুক্ত রয়েছে, যাদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা; কিন্তু মন্ত্রণালয় অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
ইতালির মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা সরকারকে এই মিশনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতামত, বিদেশে সামরিক অভিযানের জন্য অধিকার বা ম্যান্ডেট আছে, সৌদি আরব যে ঘটনায় ছিল সেটি অনুমোদনের আওতার বাইরে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দলের সদস্য ক্রোসেত্তো এ সমালোচনা খারিজ করে বলেন, মিশনের ‘আইনি ও পরিচালনাগত কাঠামো’ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তথ্যগুলো সবাই আগে থেকেই সহজলভ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা যদি সঠিক তথ্য জানতে চান, তাহলে তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটটি দেখলেই যথার্থ তথ্য পেতেন।
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যখন পাল্টা হামলা চালায়, তখন উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে মেলোনির সরকার। সরকার জানায়, ওই অঞ্চলের সহযোগী দেশগুলো বিমান-প্রতিরক্ষা ও ড্রোন-প্রতিরোধী সহায়তা চেয়েছিল।
এ সপ্তাহে দৈনিক কাগজ ‘ইল জিয়োর্নাল’ এর প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে দাবি করা হয়, ওই অঞ্চলে ৭০০ সেনা পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মোতায়েনকৃত সরঞ্জামের তালিকায় আকাশ-প্রতিরক্ষা রাডার ও ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ছিল। কিন্তু এতে ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সারফেস-টু-এয়ার’ মিসাইল আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল না, যদিও ‘ইল জিয়োর্নাল’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এটি সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘সারফেস-টু-এয়ার’ ইউনিটগুলো ইউক্রেনে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ফ্রান্স সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এ ধরনের ব্যবস্থা সরবরাহ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এপ্রিল মাসে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করেন। তিনি সংঘাত শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরকারী প্রথম ইউরোপীয় নেতা ছিলেন।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন