প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর ওয়ারীর নারিন্দা এলাকা থেকে এক যুবককে অপহরণের পরে নির্যাতন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এসেছে। আহত সুভাষ দেউরী (২৭) নামের ওই যুবক এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮টার দিকে ওয়ারী স্বামীবাগ এলাকার থেকে অপহৃত হন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কৌশলে নিজেই মুক্ত হয়ে আসার পর তার রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করান।
সুভাষ পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিতের দায়িত্বও পালন করছেন। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম শ্যামল দেউরী এবং তিনি ওয়ারী নারিন্দা রোড অগ্রণী ব্যাংকের পাশে একটি বাসায় মেস করে থাকেন।
হাসপাতালে আহত সুভাষ বলেন, যদি কোনো কিছু ভালো না লাগে, তবে সিদ্ধান্ত নেন তিনি একা একা হাঁটেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রিকশা নিয়ে স্বামীবাগ যান। এরপর তার সাথে কী ঘটেছে তা জানাতে পারেননি।
সুভাষ আরও বলেন, 'আমার মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কিছু মনে থাকে না। রাতে আমি দেখি আমি একটি মেস বাসার ভেতরে। আমাকে ৭-৮ জন যুবক আটকে রেখেছে। তাদের দেখে মনে হয়েছে তারা মাদকাসক্ত। বাসার ভেতর কয়েকজনকে ইয়াবা সেবন করতে দেখেছি। তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার মোবাইল ও মানিব্যাগ হাতিয়ে নেয়। মোবাইলে মেসেজ দেখে জানতে পারে তারা আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আছে। সেখান থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে দিতে বলে। কিন্তু আমার ফোনে ব্যাংকের অ্যাপ বা চেক বই ছিল না। তাই তারা টাকা নিতে পারেনি। তখন তারা আমার রুমমেটকে ফোন করে বিকাশে ৬ হাজার টাকা নেয়। এরপর আমার বোনকে ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা নেয়।'
তিনি বলেন, 'আমি তাদেরকে আমার পরিচয় দিইনি। বলেছি যে আমি এই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করি। তবে গলায় হিন্দু ধর্মের মালা থাকায় তারা বুঝে নেয় আমি হিন্দু। কিন্তু আমি মন্দিরের পুরোহিত, তা বলিনি। এরপর সারারাত তারা আমাকে নির্যাতন করে। তারা আমাকে মেরে ফেলাসহ অন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আমি পালানোর পরিকল্পনা করি। কৌশলে বলি আমাকে ছাদে নিয়ে যেতে। কিন্তু সেই ছাদ থেকে আমি কীভাবে বাইরে পড়ে গিয়েছি কিংবা তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে, তা বলতে পারছি না। পরে দেখি কেউ আমাকে রিকশায় তুলে দিচ্ছে।'
এরপর সেই রিকশায় তিনি নারিন্দায় তার বাসার সামনে যান। সেখান থেকে রুমমেটকে খবর দিলে রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার কপালে কাটা জখম রয়েছে। এছাড়া বাম পায়ে গুর্গালি ভেঙে গেছে। ডান পায়ে গোড়ালিতেও আঘাত পেয়েছেন।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী সুভাষ দেউরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত। সোমবার রাতে সুভাষ স্বামীবাগের ইসকন মন্দিরে যান। সেখানে প্রবেশের পর কয়েকজন যুবক তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। পরে আজ ভোরে তিনি ওই বাসার কোনো এক স্থান থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আসেন। লাফিয়ে পড়ার কারণে তিনি আঘাত পেয়েছেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলটি প্রধানত গেন্ডারিয়া থানার আওতাভুক্ত হলেও বিষয়টি ওয়ারী থানা পুলিশও তদন্ত করছে। এছাড়া ওই পুরোহিতের আগে থেকেই কিছু স্মৃতিজনিত সমস্যা রয়েছে। ফলে তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন