প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রতিদিন যে পানি আমরা পান করছি, রান্নায় ব্যবহার করছি বা শিশুদের খাবার তৈরি করছি— সেই পানি কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঢাকা ওয়াসার পানিতে একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘পিফাস’ শনাক্ত হয়েছে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলছেন গবেষকরা। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আলাদা দুটি গবেষণায় ‘পিফাস’ ধরা পড়লে ওয়াসা কমিটি গঠন করে। অথচ ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বর্তমানে রাধানীতে ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির এটিএম বুথের সংখ্যা ৩৫২টি, এবং গ্রাহকের সংখ্যা ৮ লাখেরও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ লিটার পানি বিক্রি হয়, যা পান ও রান্নায় এবং শিশুদের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগ আছে এই পানিতে এমন কিছু রাসায়নিকের উপস্থিতি নিয়ে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডেনের উমেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন জোন থেকে সংগৃহীত পানির নমুনায় ‘পিফাস’, বিভিন্ন কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং ওষুধজাত রাসায়নিক শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ নগরবাসী এ সম্পর্কে অবগত নয়।
পিফাসকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়। কারণ এই রাসায়নিকটি সহজে ভাঙে না এবং দীর্ঘদিন পরিবেশে টিকে থেকে মানবদেহেও জমা হতে পারে। আগের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, ঢাকার ওয়াসার কলের পানিতে উচ্চমাত্রার পিফাস রয়েছে। নমুনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি সহ আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিছু নমুনায় পিএফওএ ও পিএফওএসের মতো উচ্চঝুঁকির ‘পিফাস’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ কিছু পিফাসও পাওয়া গেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো এর গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ওয়াসার পানিতে ‘পিফাস’ কোথা থেকে আসছে তা শনাক্ত করতে হবে। তবে ২০২৬ সালেও ওয়াসার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘকাল এ ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিছু ‘পিফাস’ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এই পানি পান করলে আমরা ধীরে ধীরে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হবো যা আমাদের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং লিভারকে নষ্ট করবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
এদিকে, গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওয়াসা কমিটি গঠন করেছে। আট মাস অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও কোনো ফলাফল প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, গবেষণার ফলাফল তারা পর্যালোচনা করছেন।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তারা নিজেদের লেভেল এবং ‘এপারেটাস’ ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দেখছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একের পর এক গবেষণায় একই ধরনের দূষণ তথ্য সামনে আসার পরও কার্যকর পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন