প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলা ভোলার ছয়টি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে নদ-নদী উত্তাল হয়ে ওঠা, টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে।
এদিকে, জেলার মনপুরা এবং তজুমদ্দিনের কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যা উপকূলীয় এলাকার মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ বুধবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং সেখানে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেঘনা নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে, ফলে নদীপথে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা জুড়ে ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বাসসকে জানিয়েছে, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তজুমদ্দিন এবং মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বজায় থাকা কারণে ভোলা-মনপুরা, ভোলা-হাকিমুদ্দিনসহ জেলার ছয়টি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জনপদ মনপুরায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত উপজেলার মনপুরা ইউনিয়ন, দক্ষিণ সাকুচিয়া, উত্তর সাকুচিয়া এবং হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট, কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। নিচু এলাকার অনেক জমিতে বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। সদ্য রোপণ করা আমনের চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় অতিরিক্ত আদ্রতায় হলদে হয়ে গেছে।
মনপুরা ইউনিয়নের কৃষক মো. আমির হোসেন, জামাল এবং আলী আহাম্মদ মন্তব্য করেছেন যে, মনপুরা একটি উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি এখানকার ঘরবাড়ি এবং কৃষিতে পড়ে। বর্ষায় অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা মানুষের চলাফেরা এবং কৃষি উৎপাদনে বাস্তবে কঠিন করে তোলে।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো আব্দুল কাদের, সাহাবউদ্দিন এবং উত্তর সাকুচিয়ার কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, জলাবদ্ধতা এখানকার কৃষির ওপর প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে মানুষের ঘরবাড়ি এবং চলাফেরায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার জন্য কৃষিতে টিকে থাকা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ হোসেন বাসসকে বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ সাকুচিয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার খবর পেয়েছি। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে কেউ যেন পানি নিষ্কাশনে খালে বাঁধ দেয়, সেদিকে সচেতন মহল নজর রাখতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএ'র ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসসকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নৌরুটে লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, তবে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌপথে ফেরি ও যাত্রীবাহী লঞ্চ কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার ফলে মৎস্য খাতেও প্রভাব পড়েছে। বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন নদী এলাকায় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন, একই সাথে নদীতে জেলে নৌকা ও অন্য ছোট নৌযানের চলাচলও বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুর্যোগের সার্বিক খোঁজখবর রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার অবস্থায় নদীপথে যাত্রী এবং নৌযান সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেছেন বিআইডব্লিউটিএ'র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বিকেল ৬টা নাগাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ো এবং দমকা হাওয়া অব্যাহত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন