প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি পারিবারিক বিরোধের কারণে শারমিন বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর শরীরে ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি ঢেলে ঝলসে দেয়ার অভিযোগ তার আপন ননদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে। ঘটনা ঘটে শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামে। গুরুতর দগ্ধ শারমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সালমা বেগম হচ্ছেন দগ্ধ শারমিনের স্বামী দুলাল প্যাদার ছোট বোন।
পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দুপুরের সময় শারমিন বেগম রান্নাঘরে চুলায় ভাত বসিয়ে রান্নাঘরের পাশে সবজি কাটছিলেন। এমন সময়ে ননদ সালমা বেগম রান্নাঘরে ঢুকে পূর্বের বিরোধের কারণে ভাবির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে একপর্যায়ে সালমা ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত হয়ে চুলায় থাকা ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি শারমিনের শরীরের ওপর উল্টে দেন। এর ফলে গরম ভাত ও মাড়ের কারণে শারমিনের ঘাড়, বুক, পিঠ, হাত ও পা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
শারমিনের চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবার পর তার শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে রেফার করেন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গরম ভাত ও মাড় আঠালো হওয়ার কারণে তা শরীরের চামড়ার সঙ্গে লেগে যায়। ফলে শারমিন বেগমের শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্ত্রীর ওপর ননদের এমন নৃশংসতায় হতভম্ব স্বামী দুলাল প্যাদা বলেন, ‘আমার বোন সালমা বেগম হঠাৎ করেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। কী বলবো বুঝতে পারছি না।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন