প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে অবস্থিত দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন করার সময় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগ থানার পুলিশ তাদের আটক করে।
শিল্পকলা একাডেমির ওই দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন গুণীজনের প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। শনিবার দুপুরে এক নারী ও তার সহযোগীরা রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালো কালি লেপে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ওই নারী একটি ব্রাশ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিচ্ছেন। এ সময় শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য তাকে সরিয়ে দেন। পরে ওই নারী ও তার সহযোগীরা হট্টগোল শুরু করলে পুলিশ তাদের আটক করে ভ্যানে তোলে। আটকের সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
গণমাধ্যমের সামনে ওই নারী দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন ‘কাঙ্গালদের আবার কিসের শিক্ষা’। রবীন্দ্রনাথকে ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ছবিতে কালি দিয়েছেন বলে জানান।
তবে, সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই নারী নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন, তিনি অসুস্থ (জ্বরে আক্রান্ত) এবং তাকে কেবল একটি ‘সাধারণ প্রতিবাদ কর্মসূচির’ কথা বলে শিল্পকলা একাডেমির সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিতে হবে— এমন বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না। এছাড়া, আটকের সময় এক পুরুষ পুলিশ সদস্য তাকে ধাক্কা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, আয়াশ নামের এক যুবককে আটক করার পর পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক জানান, ঘটনাস্থল থেকে আয়াশসহ মোট তিন যুবক ও এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদের থানায় নেওয়া হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বর্তমানে আটকরা শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন