প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পাটুলী গ্রামের এক নারীর স্বামী প্রায় এক যুগ আগে মারা যান। চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এলাকার আব্দুল কদ্দুছকে উকিল শ্বশুর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই কারণে আব্দুল কুদ্দুছের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। স্থানীয় আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে মাঝে মাঝে ওই বিধবা নারীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হতো। প্রতি বারই ওই নারী বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার তাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দোকানে নিয়ে যান। নিরক্ষর ওই নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট ছবি সংগ্রহ করেন। কিছুদিন পর একটি খাতায় তার কাছ থেকে দুটি টিপসইও নেন।
সম্প্রতি আব্দুল কুদ্দুছের সঙ্গে ওই বিধবা নারীর বিয়ের এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রচার করা হয়। পরে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার চাইতে যান ভুক্তভোগী নারী।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে শালিস অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শোনেন উপস্থিত লোকজন। তবে অভিযুক্ত ছাত্তার শালিসে উপস্থিত না থাকায় আগামীকাল বুধবার পুনরায় শালিস হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, হতদরিদ্র ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেছেন আব্দুল কুদ্দুছ। পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসের সীল যুক্ত কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। কাবীননামায় সাক্ষী হিসেবে আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তারা কেউ বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।
কাবীননামায় স্বাক্ষীরা জানান, আব্দুস ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এই কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আব্দুল হেকিম মাস্টার নামে একজন জড়িত রয়েছেন। শালিসে আব্দুস ছাত্তারকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেননি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেকদিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনি রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি বিচার চাই।"
বিয়ের কাবিনে সাক্ষী হিসেবে নাম উল্লেখ থাকা আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম জানান, তারা ওই বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। আব্দুস ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এসব করেছেন। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন আব্দুল হেকিম মাস্টার নামে আরেক ব্যক্তি।
পৌরসভার ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার সীল ও স্বাক্ষর জাল করে কাবিননামাটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, "আমার বিএনপির কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছে এমন কিছুর সত্যতা পাইনি।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগের ভাষ্য, ভুক্তভোগী নারীর সম্মানহানীর বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন