প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের এই সময়কালে এই প্রণালী দিয়ে মোট ১৪৫৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। যদিও স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে পোর্টওয়াচের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী হল পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
যুদ্ধের শুরুতে তলানিতে যায় নৌচলাচল। যুদ্ধের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করত। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অথবা আইআরজিসি প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিতেই জাহাজ চলাচল আরও কমে যায়।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মাত্র ২৭৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়কালে প্রতিদিন গড়ে মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছিল।
এরপর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ইরানের সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করা হয়, কিন্তু এর ফলে পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতি হয়নি। ১৩ এপ্রিল থেকে ১৭ জুন পর্যন্তও প্রতিদিন গড়ে সাতটি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে।
সাময়িক সমঝোতার মাধ্যমে কিছুটা বৃদ্ধি পান জাহাজ চলাচল। ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়তে শুরু করে। ১৮ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬১৫টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এ সময়ে দৈনিক গড় জাহাজ চলাচল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩টিতে।
কিন্তু এই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ আরোপ করার ফলে জাহাজ চলাচল আবারও কমে যায়। ১৫ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত শুধুমাত্র ৯৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পেরেছে। এ সময়ে দৈনিক গড় নেমে এসেছে ১১টিতে।
যেসব জাহাজে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ, ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার, সাধারণ কার্গো ও রোল অন রোল অফ জাহাজ।
আল জাজিরার তৈরি উপাত্তভিত্তিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে ট্যাঙ্কার ও কনটেইনার জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামগ্রিকভাবে সব ধরনের জাহাজের সংখ্যা দ্রুত কমে গেছে।
যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা ও অবরোধের প্রভাবও জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১ মার্চ চারটি ট্যাঙ্কারে হামলা, ২ মার্চ আইআরজিসির হরমুজ বন্ধের ঘোষণা, ২৫ জুন এভার লাভলি নামের কনটেইনার জাহাজে হামলা এবং জুলাইয়ের নতুন হামলা ও মার্কিন অবরোধের মতো ঘটনা সময়ের নৌচলাচলে প্রভাব ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের এই বড় পতন শুধু সামুদ্রিক পরিবহন খাতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও যুদ্ধের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়েছে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
সূত্র: আলজাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন