প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং নাশকতার ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ভিডিও পাঠালে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতার নির্দেশনায় নাশকতার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডিবি জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে নাশকতায় মাদকাসক্ত এবং ভাসমান মানুষদের পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলা উদ্দিন এবং আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়।
পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রায়হান এবং মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল এবং ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ঘটনাটির ভিডিও নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতো।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হলেও ব্যবহারকারী যে ভারতে অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রোমিং সুবিধা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।
এদিকে, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যে গরমিল পাওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো এবং বোমাবাজির সমন্বয়ের অভিযোগে ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন