প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। এই লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন জোরেসোরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে সক্ষম হবে।
দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান সংকটের কারণে গ্রাহকপর্যায়ে লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে এই পারমাণবিক কেন্দ্রটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং দুই ধাপে সফলভাবে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শেষ মুহূর্তের জটিল ও সংবেদনশীল পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে যাচাই শেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
একবার পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কেন্দ্রটি থেকে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর টানা ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এর পর পুনরায় রিফুয়েলিং এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ ২ মাস বন্ধ রাখা হতে পারে।
সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ অন্য উৎসগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নির্ভেজাল এবং স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে চালনা করা প্রয়োজন। তাই গ্রিডের অবকাঠামোগত সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। গ্রিডে সামান্য ত্রুটিও তৈরি না হওয়ার জন্য এবং সংবহনে বাধা না আসার উদ্দেশ্যে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ হচ্ছে।
রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সঞ্চালন কাঠামোর আরও নিবিড় প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, নিউক্লিয়ার বিদ্যুতের দ্রুতগতির উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি খাপ খাওয়ানোর জন্য নিয়মিত আপগ্রেডেশন প্রয়োজন। এই সমন্বয় ঠিকমতো না হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। সেই ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় আপগ্রেড ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের চূড়ান্ত দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পর পিডিবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই হবে। প্রাথমিক খসড়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকার মধ্যে থাকার কথা হলেও সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর ফলে বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্যে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাশিয়া এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর প্রকল্পের কিছু বড় আর্থিক লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প চ্যানেলগুলো নিশ্চিত করতে না পারার কারণে আন্তর্জাতিক পরিশোধপ্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব প্রকল্পের স্বাভাবিক গতিতে পড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন