প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, শহীদ খামেনির উত্তরাধিকার শুধু ইরান ও মুসলিম বিশ্বেই নয়, বরং সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী ও ন্যায়বিচারকামী মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এক ঐতিহাসিক ও ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ইরানের তিনটি সরকারি শাখার প্রধানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, সংসদীয় স্পিকার, বিশেষ দূত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদরা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে খামেনির লাশ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়।
অনুষ্ঠানে ইরানি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদ পরিবার এবং আরব উপজাতীয় নেতারাও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এবং সদস্যপদ নির্ধারণী পরিষদের চেয়ারম্যান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানি।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে ছিলেন- তুর্কমেনিস্তানের পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি।
এছাড়া, ইরাক, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, বেলারুশ ও কিরগিজস্তানের সংসদ স্পিকার, নিকারাগুয়া, কঙ্গো ও বুর্কিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মিশরের সিনেট প্রেসিডেন্ট, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের মহাসচিব, ওমানের সংসদ স্পিকারসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মহাসচিব নুরলান ইয়ারমেকবায়েভ, ডি-৮ সংস্থার মহাসচিব, এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর উপ-মহাসচিবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও শহীদ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
লেবাননের হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের উপ-প্রধান, তুরস্কের উপ-প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল খেরাইজি, হামাস নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান, কাজাখস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, লেবাননের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল এমনাসা, পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, কিউবার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ওয়াল্টার বালুজা গার্সিয়া প্রমুখও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
এসমাইল বাঘাঈ, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় ১০০টি দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা এই বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছেন। তিনি জানান, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এসেছে। কমপক্ষে আটজন সরকারের প্রধান (রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী) এবং ১২টি দেশের সংসদ স্পিকার উপস্থিত রয়েছেন। আরও অনেক দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী অথবা বিশেষ দূত পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছে।’
তিনি আরও জানান, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা এসেছেন। তবে যেসব ইউরোপীয় দেশ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনকে সমর্থন করেছে, তাদের আমন্ত্রণ করা হয়নি।
এটি আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের পর ইরানে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বহুমুখী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শনি ও রোববারও চলবে। শনিবার সকাল ৬টায় সাধারণ মানুষের জন্য মোসাল্লার দরজা খুলে দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। সোমবার তেহরানে একটি বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পবিত্র শহর কোম, ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে অনুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফন করা হবে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন