প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দেওয়ার’ ঘোষণা দিয়েছেন তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় মিত্র দেশগুলোকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এবার ইরানের অর্থনীতিতে ধস নামবে, এমনকি সরকারও পতন হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি। আর আমি আপনাদের বলছি, এটা কাজ করবে। ভেনেজুয়েলায় অবরোধ আরোপের পর এটা কাজ করেছিল। কিউবায় এখনো এটা কাজ করছে। ইরানের ক্ষেত্রেও এটা কাজ করবে।’
ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশটির সরকার পতন হবে, এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে যাচ্ছি। এখন আমাদের মিত্র এবং বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’
ইরান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশের ভেতর ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে মার্কিন ভোক্তারা চাপে পড়েছেন। এছাড়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে একটি নতুন বড় নিষেধাজ্ঞার অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থার।’
তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, যারা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেবে, তাদের ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে।
এর আগে গত সপ্তাহেও মার্কিন অর্থমন্ত্রী একই ধরনের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শিগগিরই জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র—এটি হবে দ্বিমুখী কৌশলের অংশ। রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে বেসেন্ট আরও বলেন, ‘এটি অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার এমন এক সমন্বিত উদ্যোগ হবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।’
তবে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বেসেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতির ওপর পরিকল্পিত চাপ এমনভাবে প্রয়োগ করা হবে, যাতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে যাওয়ার প্রয়োজন কমে আসে।
ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ঠেকানোর যুক্তিতে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটির ওপর হামলা শুরু করে। তবে তেহরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ নাকচ করে আসছে। জবাবে ইরান ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এরপর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অনেকটাই বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিয়েছে।
সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার পথ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে একটি এবং জুনে আরেকটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু উভয় যুদ্ধবিরতিই বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং আলোচনা কার্যত থমকে গেছে।
যুদ্ধ পুনরায় শুরুর বদলে ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা হবে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’ হবে।
বেসেন্ট মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যদি তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান, অর্থ স্থানান্তর করতে চান কিংবা তাদের তেল কিনতে চান, তাহলে মার্কিন ট্রেজারি ও সরকার তাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ পরিকল্পিত নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের বিস্তারিত আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন