প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগে ভোগান্তির শিকার হওয়া এক ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে, হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক হয়ে উঠেছে। আর ডেঙ্গু তো এখন প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ, এবং দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গতিশীল করার চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান সরকার। এই সময়ের মধ্যে গত ছয় মাসের সাফল্য এবং ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের দাবি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো পরিদর্শন, অনিয়ম বিষয়ে লাইসেন্স স্থগিত করা এবং চিকিৎসাসেবায় তদারকি বৃদ্ধি করে সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া, জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দও রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও পূর্বাবস্থায় জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি উপাদানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কাজ চলছে। তার মতে, জনগণ ইতোমধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল পেয়ে যাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, চিকিৎসক এবং অবকাঠামোর অভাবের কারণে হাসপাতালে রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রায় ২৫০ রোগী আসছেন। খাবার ৫০ জনের জন্য পাওয়া যায়, বাকিরা বলেন, খাবার নেই। তিনি সমস্যার সমাধানের জন্য প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে টিমওয়ার্কের প্রতিটি অংশকে উন্নত করে তোলা। সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা বাড়ছে। সকল চিকিৎসক এবং নার্স হাসপাতালগুলোতে উপস্থিত রয়েছেন। সাড়ে ৫ মাসে বা এর বেশি কিছু নিয়ে কাজ করেছেন? সফ্টওয়ার রুমে যাচ্ছেন, দেখে নেবেন কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নেই। রোগীরা খুবই সন্তুষ্ট।
তবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদের মতে, ছয় মাস পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে স্পষ্ট এবং উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য খাতকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য এখনো স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নির্ধারিত লক্ষ্য এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এখন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র রোগীদের উন্নতি নয়, চিকিৎসকদের উন্নতির ওপরও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি নির্ভর করে। তাই চিকিৎসকদের জীবনমান এবং সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন