প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বেআইনি পুশইনের চেষ্টা সীমান্তে থামছে না। রাজশাহীর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জুন মাসে বিএসএফ মোট ১১৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে। যদিও বিজিবি ও গ্রামবাসীদের শক্তিশালী প্রতিরোধের কারণে বিএসএফ-এর এই সব প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, তবে তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই।
তীব্র রোদ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় অতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ৯ জন মানুষ, যার মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু, দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে বিএসএফের বন্দুকের নল এবং সামনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় বিজিবির শক্ত পাহারা, এমন একটি নির্মম দৃশ্য দেখা যায় গত ২৪ জুন নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে। রাতের আঁধারে অত্যন্ত অমানবিক উপায় অবলম্বন করে বিএসএফ এই নিরীহ ব্যক্তি-বর্গকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবির জোরালো অবস্থানের কারণেই তারা ব্যর্থ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশইন তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জুন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহীর সীমান্ত দিয়ে কমপক্ষে ১৫টি পুশইনের চেষ্টা ঘটেছে। তথাকথিত ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে বিএসএফ তাদের গোপন মিশনগুলো পরিচালনা করলেও সচেতন গ্রামবাসী ও বিজিবির সজাগ দৃষ্টি কারণে তারা প্রতিবারই পুশব্যাক হতে বাধ্য হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। জুন মাসে বিএসএফের পুশইনের ঘটনার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জন, ১২ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে ১৫ জন এবং ২০ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জন পুশইনের চেষ্টা হয়ে ছিল। নওগাঁ সীমান্তের ৫ জুন কলমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৯ জন, ৭ জুন নীতপুর সীমান্তে ২৫ জন এবং ২৪ জুন পাতারী সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ১৩ জুন রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে ১ জন এবং ১৪ জুন জয়পুরহাটের পাঁচবিবির হাটখোলা সীমান্তে ১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
নওগাঁর সাপাহার পাতারী গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন মন্তব্য করেন, 'আমরা সব সময় সতর্ক থাকি বিএসএফের পুশইন ঠেকানোর জন্য।'
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনা প্রমাণে এবং একতরফাভাবে এভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাতের আঁধারে নারীদের ও শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ঠেলে দেওয়াকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষক এডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, 'বিএসএফ খুব অন্যায় করছে। কারণ তারা আন্তর্জাতিক আইন মানছে না।'
'হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার নাইস পারভিন বলেন, 'আপনারা দেখেছেন পঞ্চগড় সীমান্তে কতটা অমানবিকভাবে নারী-পুরুষকে সেখানে তিন দিন থাকতে হলো। এটা আমাদের ভারত প্রতিবেশী বড় দেশ হিসেবে খুব লজ্জার। এমন আচরণ তারা করতে পারেন না।'
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় ৪৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ তাদের পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিজিবি সূত্র জানায়, কেবল জুন মাসেই বিএসএফ অন্তত ১৫ বার পুরস্কৃত ভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে এসব সীমান্তে। বিএসএফ-এর এই কার্যকলাপকে প্রতিহত করতে রাজশাহী অঞ্চলের সকল সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সব সময় সীমান্তে বাড়তি নজর রাখছি।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন