প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আর বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিক এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তারা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি নাগরিক সাগরে মারা গেছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম বলেন, তারা বলেন, তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। পরে, ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১৩ আগস্ট, নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে এসে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির নাম হলো সুনামগঞ্জের তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম, মো. মামুন খান, দিরাইয়ের নাইম আহমেদ, হবিগঞ্জের মোস্তাকিন ভূঁইয়া, জগন্নাথপুরের সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, ছাতকের তোফায়েল আহমেদ, জগন্নাথপুরের আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন।
এছাড়া, সিলেটের গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন, বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া, নজরুল ইসলাম, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম-পরিচয় নিয়ে এখনও কোন তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
আরও তথ্য জানায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যাত্রা শুরু করেছিলেন। নৌকা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ার পর ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তাদের মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে তারা মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে আটক রয়েছেন।
জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
দূতাবাসের অজ্ঞাত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান, পিতা মো. সাবু মিয়া, মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া, গত ১৬ আগস্ট বিকেলে একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই দুই মরদেহ বর্তমানে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
মরদেহের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং নিখোঁজ ওই নয় বাংলাদেশির নাম-পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া বিশেষভাবে প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের এই কর্মকর্তা। জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে।
নৌকায় শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
জাকির হোসেন আরও জানান, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে সংরক্ষিত দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন